
পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন (WBSSC) নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট তার পূর্বের রায়ে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছে। এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের যে রায় অনুযায়ী প্রায় ২৩,০০০ এরও বেশি শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীর চাকরি বাতিল করা হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্ট সেই রায়কে বহাল রেখেছে।
সম্প্রতি, সুপ্রিম কোর্ট তার ৩ এপ্রিল, ২০২৫-এর রায়ের পুনর্বিবেচনার (Review Petitions) আবেদনগুলি খারিজ করে দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক জালিয়াতি এবং কারচুপি ঘটেছে, যা সমগ্র প্রক্রিয়াকে ‘অপূরণীয়ভাবে কলুষিত’ করেছে।
একটি মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়টি স্বীকার করেছে যে এই ধরনের গণ-চাকরি বাতিলের ফলে নির্দোষ প্রার্থীরাও ‘হৃদয়-যন্ত্রণা ও যন্ত্রণার’ শিকার হচ্ছেন। তবে, আদালত একই সঙ্গে এই বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেছে যে, সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ার পবিত্রতা (Sanctity) রক্ষা করা এবং দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দেওয়া হলো সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। বিচারপতিরা মন্তব্য করেন যে, কর্তৃপক্ষের দিক থেকে ভুল লুকানোর যে প্রচেষ্টা করা হয়েছে, তার ফলে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে।
আদালত আরও একবার জোর দিয়ে বলেছে যে, জালিয়াতির কারণে যেহেতু পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটিই আপোস হয়ে গেছে, তাই পুরো প্যানেল বাতিল করাই ছিল অনিবার্য সিদ্ধান্ত। নির্দোষ প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, **’সিস্টেমিক প্রতারণা’**র কারণে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
এর আগে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, যারা বেআইনিভাবে চাকরি পেয়েছেন, তাদের অবশ্যই বরখাস্ত হতে হবে। তবে, আদালত এই প্রার্থীদের থেকে বেতন ফেরতের নির্দেশ দেয়নি। সুপ্রিম কোর্ট এই সমস্ত প্রার্থীদের নির্দিষ্ট অভিযোগের জন্য কলকাতা হাইকোর্টে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে, যেখানে এই সংক্রান্ত অন্যান্য মামলাগুলিও চলছে। আদালত নিশ্চিত করতে বলেছে, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যেন কোনো ‘কলুষিত প্রার্থী’ সুযোগ না পায়।



