খবরাখবর

চন্দ্রশেখর আজাদের স্বস্তি নেই: সাহারানপুর হিংসা মামলায় FIR বাতিলের আবেদন খারিজ করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট

২০১৭ সালের সাহারানপুর হিংসা মামলায় ভীম আর্মি প্রধান তথা বর্তমান সাংসদ চন্দ্রশেখর আজাদের (রাবণ) বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক এফআইআর (FIR) বাতিল করতে অস্বীকার করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫-এ একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, একই দিনে ঘটলেও প্রতিটি এফআইআর আলাদা আলাদা অপরাধের ভিত্তিতে দায়ের করা হয়েছে, তাই এগুলোকে ‘সেকেন্ড এফআইআর’ হিসেবে গণ্য করে বাতিল করা সম্ভব নয়।

মামলার প্রেক্ষাপট

২০১৭ সালের ৯ মে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জেলায় ভয়াবহ অস্থিরতা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল। অভিযোগ ছিল, চন্দ্রশেখর আজাদ এবং তাঁর অনুগামী ২৫০-৩০০ জন মানুষ মিলে সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে আগুন ধরিয়ে দেন এবং পুলিশের ওপর হামলা চালান। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রথম এফআইআর-টি (মামলা নং ১৫২/২০১৭) দায়ের হয়েছিল জনরোষ ও সরকারি কাজে বাধার অভিযোগে।

তবে ওই একই দিনে আরও চারটি পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়। এগুলি ছিল ভিন্ন ভিন্ন স্থানে সাংবাদিকের মোটরসাইকেল পোড়ানো, নির্মাণাধীন ভবন ভাঙচুর, পুলিশের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং সাধারণ মানুষকে আহত করার ঘটনার ওপর ভিত্তি করে।

চন্দ্রশেখরের আইনি লড়াই

চন্দ্রশেখর আজাদ ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’র (BNSS) প্রাসঙ্গিক ধারা অনুযায়ী আবেদন করেছিলেন যে, যেহেতু মূল ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি এফআইআর আগেই দায়ের হয়েছে, তাই পরবর্তী এফআইআরগুলো আইনত অবৈধ। তাঁর আইনজীবীদের যুক্তি ছিল, এই সমস্ত অভিযোগ একই বড় ঘটনার অংশ, তাই একাধিক মামলার ট্রায়াল চলা উচিত নয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

বিচারপতি সামীর জৈনের বেঞ্চ এই যুক্তি গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। রাজ্য সরকারের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয় যে, প্রতিটি ঘটনা ভিন্ন সময়ে এবং ভিন্ন স্থানে ঘটেছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে:

  • ভিন্ন প্রকৃতি: একটি ঘটনায় সাংবাদিক আক্রান্ত হয়েছেন, অন্যটিতে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে। ফলে অভিযোগের প্রকৃতি আলাদা।

  • বিচারের পর্যায়: মামলাগুলো বর্তমানে বিচারিক প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অনেক সাক্ষীর শুনানি হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় মামলা বাতিল করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

  • বৃহত্তর ষড়যন্ত্র: আদালত জানায়, একই দিনে বিভিন্ন স্থানে হিংসা ছড়ানোর পেছনে কোনও বড় ষড়যন্ত্র থাকতে পারে, যা আলাদা তদন্তের দাবি রাখে।

উপসংহার

সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন পূর্ববর্তী রায়ের নজির টেনে হাইকোর্ট সাফ জানিয়ে দেয়, যদি পরবর্তী এফআইআর-এর পরিধি বা বিষয়বস্তু আলাদা হয়, তবে তা বহাল রাখা যায়। এই রায়ের ফলে সাহারানপুর হিংসা মামলায় চন্দ্রশেখর আজাদের বিরুদ্ধে প্রতিটি মামলার বিচার প্রক্রিয়া স্বতন্ত্রভাবেই চলবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button