বিদেশে কর্মরত স্ত্রীকে দেশে ফেরার শর্ত দেওয়া যাবে না: রাজস্থান হাইকোর্টের নির্দেশ খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়া দিল্লি: ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত স্বামীর বিদেশ যাত্রার অনুমতি দিতে গিয়ে তাঁর স্ত্রীকে দেশে ফিরে আসার যে শর্ত রাজস্থান হাইকোর্ট দিয়েছিল, তা খারিজ করে দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালত সাফ জানিয়েছে, এই ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্তের স্ত্রী কোনোভাবেই অভিযুক্ত বা পক্ষভুক্ত নন। তাই তাঁর মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করে এমন কোনো শর্ত আদালত আরোপ করতে পারে না।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: মামলাটি রাজস্থানের আজমিরের খ্রিস্টানগঞ্জ থানার। একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস বা ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ৬৯ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি বর্তমানে আগাম জামিনে মুক্ত রয়েছেন। তিনি আমেরিকায় একটি কাজের সুযোগ পান এবং সেখানে যাওয়ার জন্য নিম্ন আদালতের অনুমতি চান। কিন্তু নিম্ন আদালত তাঁর আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে তিনি রাজস্থান হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
হাইকোর্টের শর্ত ও বিতর্ক: রাজস্থান হাইকোর্ট ওই ব্যক্তিকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিলেও একটি নজিরবিহীন শর্ত জুড়ে দেয়। আদালত নির্দেশ দেয় যে, অভিযুক্তের স্ত্রীকে ভারতে ফিরে আসতে হবে এবং স্বামী বিদেশে থাকাকালীন তাঁকে দেশেই অবস্থান করতে হবে। উল্লেখ্য, অভিযুক্তের স্ত্রী নিজেও আমেরিকায় কর্মরত এবং তিনি এই মামলার কোনো পক্ষ নন। হাইকোর্টের এই নির্দেশকে ‘পদ্ধতিগত ত্রুটি’ এবং সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ (ব্যক্তিগত স্বাধীনতা)-এর পরিপন্থী বলে দাবি করে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা হয়।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ: বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি অলোক আরাধের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। অভিযুক্তের আইনজীবী অশ্বিনী দুবে আদালতে জানান যে, তাঁর মক্কেলের স্ত্রী এই মামলার সঙ্গে যুক্ত নন এবং তিনি বর্তমানে ভারতেই নেই। সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করে যে, যে ব্যক্তি অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন, তাঁকে জোর করে দেশে আটকে রাখা বা ফিরে আসতে বাধ্য করা আইনত সমর্থনযোগ্য নয়।
আদালত অভিযুক্তের একটি মুচলেকা গ্রহণ করেছে, যেখানে তিনি জানিয়েছেন যে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে তিনি প্রতিটি শুনানিতে অংশ নেবেন এবং প্রয়োজনে সশরীরে ট্রায়াল কোর্টে হাজিরা দেবেন। এই নিশ্চয়তার ভিত্তিতে হাইকোর্টের দেওয়া ‘স্ত্রীকে দেশে ফেরার’ শর্তটি সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দিয়েছে। একইসঙ্গে অভিযুক্তকে বিদেশ ভ্রমণের জন্য ২ লক্ষ টাকা জামানত হিসেবে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



