খবরাখবর

বিচারপতি জি আর স্বামীনাথনের অভিশংসন (Impeachment) প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ৫০ জনেরও বেশি বিচারকের সংহতি প্রকাশ: বিচারবিভাগের স্বাধীনতায় আঘাতের নিন্দা

মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জি আর স্বামীনাথনের বিরুদ্ধে একদল সংসদ সদস্য এবং সিনিয়র আইনজীবীর অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি এবং বিভিন্ন হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ও বিচারপতিসহ ৫০ জনেরও বেশি প্রাক্তন বিচারপতি। বিচারপতিরা এই পদক্ষেপকে বিচারবিভাগের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হুমকি এবং স্বাধীন বিচারপতিদের ভয় দেখানোর নির্লজ্জ প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন।

বিতর্কের পটভূমি: এই নিন্দার মূল কারণ হলো বিচারপতি স্বামীনাথনের দেওয়া ‘দীপম’ সংক্রান্ত একটি রায়। তিনি তাঁর রায়ে মাদুরাইয়ের তিরুপারানকুনড্রাম পাহাড়ের চূড়ায় ঐতিহ্যবাহী কার্থিগাই দীপম প্রজ্জ্বলনের অনুমতি দেন। এই স্থানটিতে একটি মন্দির এবং তার কাছেই একটি দরগাও রয়েছে। বিচারপতি রায় দেন যে এই ধর্মীয় আচার মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকারে হস্তক্ষেপ করবে না।

৯ ডিসেম্বর, দ্রাবিড় মুনেত্র কাজাগম (DMK)-এর নেতৃত্বে INDIA জোটের সংসদ সদস্যরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে বিচারপতি স্বামীনাথনের অপসারণের দাবি জানিয়ে একটি অভিশংসন নোটিশ জমা দেন। তাদের অভিযোগ, বিচারপতির আচরণ বিচারবিভাগীয় নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার প্রতি আস্থা নষ্ট করছে। তাদের দাবি, বিচারপতির কিছু রায় রাজনৈতিক মতাদর্শে প্রভাবিত, যা সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর পরিপন্থী।

প্রাক্তন বিচারপতিদের সংহতি: শুক্রবার জারি করা এক বিবৃতিতে প্রাক্তন বিচারপতিরা কড়া ভাষায় বলেন, এই প্রচেষ্টা বিচারকদের ভয় দেখানোর একটি নির্লজ্জ চেষ্টা, যারা রাজনৈতিক বা আদর্শগত প্রত্যাশার সঙ্গে সহমত পোষণ করেন না। তাঁরা সতর্ক করেন, এই ধরনের পদক্ষেপ চলতে থাকলে তা “আমাদের গণতন্ত্র এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মূলে আঘাত হানবে।”

প্রাক্তন বিচারপতিরা জোর দিয়ে বলেছেন যে সংসদ সদস্যরা যে কারণগুলি উল্লেখ করেছেন, সেগুলিকে মেনে নিলেও তা সংবিধান দ্বারা নির্ধারিত অভিশংসনের সাংবিধানিক সীমার (Constitutional Threshold) অনেক নিচে। তাঁরা আরও উল্লেখ করেন যে অভিশংসন হলো একটি অত্যন্ত বিরল, ব্যতিক্রমী এবং গুরুতর সাংবিধানিক পদক্ষেপ।

বিবৃতিতে অতীতে বিচারবিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের প্রভাব খাটানোর উদাহরণ (যেমন জরুরি অবস্থার সময় কেশবানন্দ ভারতী মামলার পরে সুপ্রিম কোর্টের তিনজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতির পদাবনতি এবং এডিএম জবলপুর মামলায় ভিন্নমত পোষণ করার জন্য বিচারপতি এইচ আর খান্না-কে কোণঠাসা করা) তুলে ধরা হয়। তাঁরা বলেন, অভিশংসন হলো বিচারবিভাগের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য একটি হাতিয়ার, প্রতিশোধ নেওয়ার মাধ্যম নয়। একজন কর্মরত হাইকোর্টের বিচারপতিকে তাঁর বিচারিক সিদ্ধান্তের জন্য লক্ষ্যবস্তু করা একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি করে।

প্রাক্তন বিচারপতিরা সকল রাজনৈতিক দল, আইনজীবী এবং সুশীল সমাজকে এই প্রচেষ্টার বিরোধিতা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা জোর দিয়ে বলেছেন, “আইনের শাসনের অধীনে পরিচালিত একটি প্রজাতন্ত্রে, রায়গুলি আপিল এবং আইনি সমালোচনার মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়, রাজনৈতিক মতবিরোধের জন্য অভিশংসনের হুমকি দিয়ে নয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button