এসসি/এসটি আইনেও আপস: নির্যাতিতারা পক্ষ ত্যাগ করলে ক্ষতিপূরণ নয়, নির্দেশ মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের

মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট (Madhya Pradesh High Court) একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে জানিয়েছে যে, তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (Prevention of Atrocities) আইন, ১৯৮৯ (SC/ST Act)-এর অধীনে দায়ের হওয়া মামলাগুলিতে যদি নির্যাতিতা বা অভিযোগকারীরা শত্রুতা দেখান (turn hostile) অথবা অভিযুক্তদের সঙ্গে আপস (settle) করে নেন, তবে তারা আর রাজ্যের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ (Compensation) পাওয়ার যোগ্য থাকবেন না।
বিচারপতি সুরেশ কুমার সিং-এর একক বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট করেছে যে, এসসি/এসটি আইনের উদ্দেশ্য হলো এই সম্প্রদায়গুলির বিরুদ্ধে হওয়া নৃশংসতা বা অত্যাচারের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া, কিন্তু সেই সহায়তা তখনই দেওয়া যেতে পারে যখন অপরাধটি প্রমাণিত হয় বা আদালতের কার্যক্রমে সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়।
হাইকোর্টের মূল নির্দেশিকা ও পর্যবেক্ষণ:
হাইকোর্ট নিম্নোক্ত বিষয়গুলির ওপর জোর দিয়েছে:
১. উদ্দেশ্য লঙ্ঘন: আদালত উল্লেখ করেছে যে, অভিযুক্তের সঙ্গে আপস করা বা আদালতে অভিযোগ থেকে সরে আসা (পক্ষ ত্যাগ করা) এসসি/এসটি আইনের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ করে দেয়। কারণ, এই আইনটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বিরোধ মেটানোর জন্য নয়, বরং এই সম্প্রদায়গুলির বিরুদ্ধে হওয়া সামাজিক অবিচার মোকাবিলা করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
২. আর্থিক সুবিধার অপব্যবহার: আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে, ক্ষতিপূরণের বিধানটি যাতে অর্থনৈতিক সুবিধার হাতিয়ার হিসেবে অপব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। যদি অভিযুক্তদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে মামলা তুলে নেওয়া হয়, তবে এটি আইনটির পবিত্রতা নষ্ট করে।
৩. ক্ষতিপূরণ নয়: যে সব ক্ষেত্রে নির্যাতিতা বা অভিযোগকারীরা আদালতে তাদের অভিযোগ সমর্থন করেন না বা আপস করে নেন, সেই ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের সমাজকল্যাণ বিভাগ এই আইনের অধীনে নির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণের অর্থ দিতে বাধ্য থাকবে না।
৪. প্রমাণ সাপেক্ষ: ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে তখনই, যখন আদালতের সামনে এই অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হবে। কেবল এফআইআর (FIR) দায়ের হলেই ক্ষতিপূরণ দেওয়া যাবে না।
হাইকোর্ট এই রায়ের মাধ্যমে এসসি/এসটি আইনের অপব্যবহার রোধ করতে এবং এই আইনে দেওয়া আর্থিক সহায়তার বিধানটিকে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য অনুসারে চালিত করতে একটি কঠোর আইনি অবস্থান গ্রহণ করেছে। আদালত মনে করে, এই পদক্ষেপের ফলে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা কমবে এবং আপস-ভিত্তিক নিষ্পত্তির মাধ্যমে আইনের লক্ষ্য ব্যাহত হবে না।
মামলাটি ছিল এস. কুমার বনাম মধ্যপ্রদেশ রাজ্য (S. Kumar v. State of Madhya Pradesh) বা এই সংক্রান্ত অন্যান্য মামলা যা এই নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত



