হাইকোর্ট

দিল্লি হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়: ওবিসি-নন ক্রিমি লেয়ার সার্টিফিকেট পুরো অর্থবর্ষের জন্য বৈধ

সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীদের জন্য, বিশেষ করে ওবিসি (OBC) বা অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর প্রার্থীদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক রায় দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, ওবিসি-নন ক্রিমি লেয়ার (OBC-NCL) সার্টিফিকেট যদি কোনো নির্দিষ্ট অর্থবর্ষের (Financial Year) মধ্যে ইস্যু করা হয়, তবে তা সেই পুরো বছরের জন্য বৈধ বলে গণ্য হবে। শুধুমাত্র আবেদনের ‘কাট-অফ’ তারিখের পরে সার্টিফিকেট ইস্যু হয়েছে—এই যুক্তিতে কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা যাবে না।

অনেক সময় দেখা যায়, বিভিন্ন সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে (যেমন ইউপিএসসি বা অন্যান্য সরকারি বোর্ড) আবেদনের শেষ তারিখ বা একটি নির্দিষ্ট ‘কাট-অফ’ তারিখ বেঁধে দেওয়া হয়। প্রার্থীদের সেই তারিখের আগেই তাদের জাতিগত শংসাপত্র বা ওবিসি সার্টিফিকেট জমা দিতে বলা হয়। অনেক প্রার্থীর সার্টিফিকেট সেই নির্দিষ্ট তারিখের পরে ইস্যু হওয়ার কারণে তাদের অযোগ্য বলে ঘোষণা করা হতো, এমনকি তারা প্রকৃতপক্ষে সেই বছর ওবিসি-এনসিএল ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত হলেও। এই প্রথার বিরুদ্ধেই দিল্লি হাইকোর্ট কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

আদালত ব্যাখ্যা করেছে যে, ‘নন-ক্রিমি লেয়ার’-এর মর্যাদা মূলত একজন প্রার্থীর পরিবারের বার্ষিক আয়ের ওপর নির্ভর করে। এই আয় একটি সম্পূর্ণ অর্থবর্ষের ভিত্তিতে গণনা করা হয়, কোনো নির্দিষ্ট দিনের ভিত্তিতে নয়। তাই, যদি কোনো প্রার্থী সেই অর্থবর্ষে এনসিএল (NCL) বা নন-ক্রিমি লেয়ারের আওতায় পড়েন, তবে তার সার্টিফিকেট সেই বছরের যেকোনো সময় ইস্যু করা হোক না কেন, তা তার যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

হাইকোর্ট আরও উল্লেখ করেছে যে, শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক তারিখ বা ‘কাট-অফ ডেট’-এর দোহাই দিয়ে একজন যোগ্য প্রার্থীকে তার সংবিধান স্বীকৃত অধিকার (অনুচ্ছেদ ১৬ অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে সমান সুযোগ) থেকে বঞ্চিত করা অন্যায়। যদি কোনো প্রার্থীর সার্টিফিকেট আবেদনের শেষ তারিখের পরে কিন্তু ওই একই অর্থবর্ষের মধ্যে ইস্যু করা হয়ে থাকে, তবে নিয়োগকারী সংস্থাকে তা গ্রহণ করতে হবে।

এই রায়ের ফলে হাজার হাজার ওবিসি চাকরিপ্রার্থী উপকৃত হবেন। আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অনেক সময় সার্টিফিকেট হাতে পেতে দেরি হয়, যার ফলে আগে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের বাদ পড়তে হতো। আদালতের এই নির্দেশ সেই বৈষম্য দূর করবে এবং নিশ্চিত করবে যে কেবল পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে যেন কেউ তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button