
কর্ণাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং বিজেপি নেতা বি. এস. ইয়েদিয়ুরাপ্পা-এর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পকসো (POCSO – Protection of Children from Sexual Offences) আইনের মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়েছে। এই রায়ের ফলে প্রবীণ এই বিজেপি নেতাকে সাময়িক স্বস্তি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ ইয়েদিয়ুরাপ্পার আবেদনের ভিত্তিতে এই নির্দেশ দেয়। আদালত একই সঙ্গে কর্ণাটক সরকার এবং মামলার অন্য পক্ষকে নোটিস জারি করে তাদের জবাব চেয়েছে।
মামলার পটভূমি:
মামলাটি ২০২৩ সালের মার্চ মাসের একটি অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয়। এক মহিলা অভিযোগ করেন যে, ইয়েদিয়ুরাপ্পা তাঁর নাবালিকা মেয়েকে সাহায্য চাইতে তাঁর বাসভবনে গেলে তাকে অনুপযুক্তভাবে স্পর্শ করেছিলেন। এর ভিত্তিতে বেঙ্গালুরু পুলিশ ১৪ মার্চ, ২০২৪-এ পকসো আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা (ধারা ৮) এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ধারা ৩৫৪(এ) (যৌন হয়রানি)-এর অধীনে এফআইআর (FIR) দায়ের করে।
ইয়েদিয়ুরাপ্পা এই মামলা খারিজ করার জন্য কর্ণাটক হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন, কিন্তু হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্য এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এর পরেই তিনি হাইকোর্টের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ:
সুপ্রিম কোর্ট মূলত এই সীমিত বিষয়ে নোটিস জারি করেছে যে, কর্ণাটক হাইকোর্টের আগের সিদ্ধান্তকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে কি না। বিচারপতিরা পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, পূর্বে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চের সিদ্ধান্তকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছিল যে, ইয়েদিয়ুরাপ্পার আবেদন মেধার ভিত্তিতে (on merits) শোনা যাবে না। এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, হাইকোর্টকে নতুন করে এই মামলাটি মেধার ভিত্তিতে শোনার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল। তাই, এই ভুল ব্যাখ্যার ফলে যাতে ইয়েদিয়ুরাপ্পা তাঁর ন্যায়সঙ্গত আইনি সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করার জন্যই সর্বোচ্চ আদালত বিচার প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দিয়েছে।
আদালত স্পষ্ট করে বলেছে, বর্তমানে বিচার প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দেওয়া হলো এবং মামলাটি সম্ভবত হাইকোর্টে ফেরত পাঠানো হবে যাতে তারা নতুন করে এবং পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অভিযোগের মেধা পরীক্ষা করে।
পকসো আইনে সাধারণত মামলা রুজু হওয়ার এক বছরের মধ্যে বিচার শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, ইয়েদিয়ুরাপ্পার আইনজীবী যুক্তি দিয়েছেন যে, বিচার শুরু হওয়ার সময়সীমা শুরু হয় তখনই, যখন আদালত অভিযোগ আমলে নেয় এবং এক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়াটি এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।



