
দেশজুড়ে সাইবার অপরাধীদের দ্বারা সংগঠিত ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ (Digital Arrest) নামে পরিচিত জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালত সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (CBI)-কে এই ধরনের প্রতারণার ঘটনাগুলির দেশব্যাপী তদন্ত (Pan-India Probe) করার নির্দেশ দিয়েছে।
ডিজিটাল অ্যারেস্ট হলো এক ধরনের সাইবার জালিয়াতি, যেখানে প্রতারকরা নিজেদের পুলিশ, আদালত বা সরকারি এজেন্সির আধিকারিক বলে পরিচয় দেয়। তারা ভিডিও কলের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের ভয় দেখায় যে তাদের গ্রেফতার করা হবে এবং এই জাল গ্রেফতারি থেকে মুক্তি পেতে বিশাল অঙ্কের অর্থ দাবি করে। বহু ক্ষেত্রে, বিশেষত বয়স্ক নাগরিকদের লক্ষ্য করে তাদের সঞ্চিত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এই ধরনের জালিয়াতি দেশের ‘প্রধান তদন্তকারী সংস্থার অবিলম্বে মনোযোগ’ দাবি করে। তাই সিবিআইকে প্রথমে ডিজিটাল অ্যারেস্ট সংক্রান্ত মামলাগুলির তদন্ত করতে হবে এবং পরবর্তী ধাপে অন্যান্য সাইবার ক্রাইম (যেমন বিনিয়োগ ও পার্ট-টাইম চাকরির জালিয়াতি) খতিয়ে দেখা হবে।
সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ:
-
ব্যাঙ্কারদের ভূমিকা: আদালত সিবিআইকে ‘ফ্রি হ্যান্ড’ বা সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে, যাতে তারা দুর্নীতির প্রতিরোধ আইন (Prevention of Corruption Act)-এর অধীনে সেইসব ব্যাঙ্কারের ভূমিকা তদন্ত করতে পারে, যারা এই জালিয়াতির জন্য ব্যবহৃত ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’ (Mule Accounts) খুলতে সহায়তা করেছে।
-
আরবিআই এবং এআই: আদালত রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-কে এই বিষয়ে সহায়তা করার নির্দেশ দিয়েছে এবং জানতে চেয়েছে যে কেন সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টগুলি চিহ্নিত করতে এবং অপরাধের অর্থ বাজেয়াপ্ত করতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) বা মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে না।
-
রাজ্যগুলির সহযোগিতা: যে সব রাজ্য সিবিআইকে তদন্তের জন্য সাধারণ সম্মতি (General Consent) দেয়নি, আদালত তাদের দ্রুত এই মামলাগুলির জন্য সম্মতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে সিবিআই সারা দেশে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে পারে।
-
আন্তর্জাতিক সংযোগ: যেহেতু এই অপরাধগুলির মাত্রা এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ রয়েছে, তাই সিবিআই প্রয়োজনে ইন্টারপোল (Interpol)-এর সহায়তা নিতে পারবে।
সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপটি সাইবার জালিয়াতির বিরুদ্ধে একটি কঠোর সতর্কতা হিসাবে দেখা হচ্ছে এবং আশা করা হচ্ছে যে এর ফলে এই ধরনের অপরাধের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব হবে।



