
মামলার প্রেক্ষাপট
একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে সুপ্রিম কোর্ট অফ ইন্ডিয়া স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, হাইকোর্টগুলি কোনো প্রথম তথ্য প্রতিবেদন (FIR) বাতিল না করেই অভিযুক্তকে গ্রেফতারি থেকে সুরক্ষা বা আগাম জামিন মঞ্জুর করতে পারে না। এই রায় আইনি আদালতগুলির বিধিবদ্ধ ক্রম (statutory hierarchy) বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে।
মামলার সূত্রপাত হয়েছিল যখন এলাহাবাদ হাইকোর্ট কয়েকটি রিট পিটিশনে (Writ Petitions) অভিযুক্তদের গ্রেফতারি থেকে সুরক্ষা প্রদান করে, যদিও একই সময়ে এফআইআর বাতিল করার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।
-
প্রশ্নযুক্ত এফআইআর: এফআইআর নং ২৪৯/২০২৫, যা মথুরা জেলার ছাতা (Chhata) থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর বিভিন্ন ধারায় নথিভুক্ত করা হয়েছিল।
-
অভিযুক্তের চাওয়া: অভিযুক্তরা, যার মধ্যে সঞ্জয় কুমার গুপ্ত অন্যতম, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গ্রেফতারি থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষার দাবি জানিয়েছিলেন।
-
আইনি বিষয়: হাইকোর্ট যখন একটি গুরুতর অপরাধের এফআইআর বাতিল করতে অস্বীকার করে, তখন একই সাথে অভিযুক্তকে গ্রেফতারি থেকে সুরক্ষা দেওয়া বা আগাম জামিন মঞ্জুর করা কতটা আইনসম্মত ও পদ্ধতিগতভাবে সঠিক, এই প্রশ্নটি সুপ্রিম কোর্টের সামনে আসে।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও আইনি রেফারেন্স
বিচারপতি বিক্রম নাথ (Justice Vikram Nath) এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতা (Justice Sandeep Mehta)-এর বেঞ্চ এই ধরনের পদক্ষেপকে পদ্ধতিগতভাবে ভুল এবং স্ব-বিরোধী বলে ঘোষণা করে।
১. বিচারিক ক্রমের প্রতি সম্মান: আদালত পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে আগাম জামিনের জন্য আবেদন করার সঠিক প্রক্রিয়া হল, ফৌজদারি কার্যবিধির (CrPC) ৪৩৮ ধারার অধীনে প্রথমে দায়রা আদালত (Sessions Court)-এর কাছে আবেদন করা। হাইকোর্ট সরাসরি দায়রা আদালতের প্রক্রিয়াকে বাইপাস করতে পারে না।
২. স্ব-বিরোধী আদেশ নয়: সুপ্রিম কোর্ট বলেছে যে, যদি একটি এফআইআর একটি আমলযোগ্য অপরাধ (cognizable offence) প্রকাশ করে এবং হাইকোর্ট যদি সেই এফআইআর বাতিল করতে অস্বীকার করে, তবে একই সাথে গ্রেফতারি থেকে সুরক্ষা দেওয়া তদন্ত প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে তোলে। এটি যৌক্তিক দিক থেকে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
৩. তদন্তে বিরূপ প্রভাব: ‘চার্জশিট দাখিল না হওয়া পর্যন্ত’ গ্রেফতারি থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা মঞ্জুর করা হলে, তা পুলিশি তদন্তের সাথে আপস করে এবং বিচার নীতির লঙ্ঘন করে।
৪. নজিরের উপর নির্ভরতা (নীহারিকা ডকট্রিন): সুপ্রিম কোর্ট তার এই সিদ্ধান্তকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করতে নীহারিকা ইনফ্রাস্ট্রাকচার (পি) লিমিটেড বনাম মহারাষ্ট্র রাজ্য [(Neeharika Infrastructure (P) Ltd. v. State of Maharashtra, (2021) 19 SCC 401)] মামলায় প্রদত্ত পূর্ববর্তী রায়ের ওপর নির্ভর করেছে। ওই রায়ে বলা হয়েছিল:
হাইকোর্টগুলির সংবিধানের ২২৬ ধারা এবং সিআরপিসির ৪৮২ ধারার অধীনে ক্ষমতা থাকলেও, সেই ক্ষমতাগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রেফতারি থেকে সুরক্ষা বা আগাম জামিন মঞ্জুর করার জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়। এই ধরনের প্রতিকার কেবল তখনই মঞ্জুর করা উচিত, যখন এটি স্পষ্টভাবে জরুরি এবং ন্যায্য বলে প্রমাণিত হয়।
চূড়ান্ত নির্দেশ
সুপ্রিম কোর্ট এলাহাবাদ হাইকোর্টের ১৬ জুন ২০২৫ এবং ১৫ জুলাই ২০২৫ তারিখের আদেশগুলি বাতিল করে দেয়। আদালত এফআইআর বাতিল করার আবেদনগুলির যোগ্যতার ভিত্তিতে (on merits) নতুন করে বিবেচনার জন্য বিষয়টি এলাহাবাদ হাইকোর্টে ফেরত পাঠায়।
যদিও হাইকোর্টের দ্বারা প্রদত্ত অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা সেই আবেদনগুলির শুনানির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বহাল রাখার অনুমতি দেওয়া হয়, আদালত হাইকোর্টকে যত দ্রুত সম্ভব, সম্ভব হলে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে চার মাসের মধ্যে, আবেদনগুলির নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছে।



