খবরাখবর

উন্নাও ধর্ষণ মামলা: কুলদীপ সেঙ্গারের সাজা স্থগিতের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গেল সিবিআই

উন্নাও ধর্ষণ মামলায় প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গারের সাময়িক স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হলো না। দিল্লি হাইকোর্ট সম্প্রতি সেঙ্গারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড স্থগিত রেখে তাকে জামিন দেওয়ার যে নির্দেশ দিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলো সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (CBI)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি শীর্ষ আদালতে একটি ‘স্পেশাল লিভ পিটিশন’ বা বিশেষ আবেদন দায়ের করে হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশের উন্নাওতে এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তৎকালীন প্রভাবশালী বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গারের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাটি সারা দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার পর, নিম্ন আদালত সেঙ্গারকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং তাকে আজীবন কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের জরিমানা প্রদান করে। নিম্ন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে সেঙ্গার দিল্লি হাইকোর্টে আপিল করেছিলেন।

দিল্লি হাইকোর্টের বিতর্কিত রায়

সম্প্রতি দিল্লি হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ সেঙ্গারের সাজা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। আদালতের যুক্তি ছিল, সেঙ্গার ইতিমধ্যেই এই মামলায় ৭ বছর ৫ মাস জেল খেটেছেন। যেহেতু উচ্চ আদালতে তার আপিলের শুনানি শেষ হতে আরও সময় লাগতে পারে, তাই আদালত মানবিক দিক ও আইনি প্রক্রিয়া বিবেচনা করে তার যাবজ্জীবন সাজা স্থগিত রাখে এবং তাকে জামিন দেয়।

তবে এখানে উল্লেখ্য, এই মামলায় জামিন পেলেও সেঙ্গার এখনই জেল থেকে ছাড়া পাচ্ছেন না। কারণ, নির্যাতিতার বাবার পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর মামলায় তাকে অন্য একটি আদালতের রায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হচ্ছে।

সিবিআই-এর আপত্তি ও যুক্তি

দিল্লি হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধেই তীব্র আপত্তি জানিয়েছে সিবিআই। সুপ্রিম কোর্টে করা আবেদনে সিবিআই দাবি করেছে যে, হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্ত আইনের চোখে ত্রুটিপূর্ণ। সিবিআই-এর প্রধান যুক্তিগুলো হলো:

১. জনসেবক বা পাবলিক সার্ভেন্ট তত্ত্ব: সিবিআই যুক্তি দিয়েছে যে, অপরাধটি যখন ঘটেছিল তখন সেঙ্গার একজন বিধায়ক ছিলেন। আইন অনুযায়ী একজন বিধায়ক বা জনপ্রতিনিধি ‘পাবলিক সার্ভেন্ট’ বা জনসেবক হিসেবে গণ্য হন। পকসো (POCSO) আইনের ধারা অনুযায়ী, রক্ষক যখন ভক্ষক হয় অর্থাৎ কোনো জনসেবক যখন শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন চালায়, তখন তার শাস্তি আরও কঠোর হওয়া উচিত।

২. সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা: সিবিআই আদালতের কাছে সওয়াল করেছে যে, সাংবিধানিক পদে থাকা একজন ব্যক্তি জনগণের বিশ্বাসের প্রতীক। সেই পদে থেকে এমন জঘন্য অপরাধ করার পর তাকে সাজার মেয়াদ বা আপিলের দোহাই দিয়ে ছাড় দেওয়া উচিত নয়। হাইকোর্ট এই ‘পাবলিক সার্ভেন্ট’ বা জনসেবকের দিকটি সঠিকভাবে বিবেচনা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ

সিবিআই এখন সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানিয়েছে যেন দিল্লি হাইকোর্টের দেওয়া ওই সাজা স্থগিত ও জামিনের আদেশটি বাতিল করা হয়। শীর্ষ আদালত এখন সিদ্ধান্ত নেবে যে, একজন হাই-প্রোফাইল অপরাধী, যিনি জনপ্রতিনিধি ছিলেন, তার ক্ষেত্রে আপিল চলাকালীন জামিনের নিয়ম কতটা কঠোর হওয়া উচিত। এই মামলার দিকে এখন সবার নজর রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button