হাইকোর্ট

বারবার স্বামীকে পরিত্যাগ ও মানসিক নির্যাতন বিবাহবিচ্ছেদের বৈধ কারণ: যুগান্তকারী রায় মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের

দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘ বিচ্ছেদ এবং কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বারবার স্বামীকে পরিত্যাগ করা ‘মানসিক নিষ্ঠুরতা’র (Mental Cruelty) শামিল। সম্প্রতি একটি মামলার শুনানিতে এমন তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদ মঞ্জুর করেছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। আদালতের মতে, দীর্ঘস্থায়ী বিচ্ছেদ এবং সঙ্গীর এমন আচরণ বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিকে অপূরণীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

মামলার প্রেক্ষাপট: হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫-এর ১৩(১)(ia) এবং ১৩(১)(ib) ধারার অধীনে এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মানসিক নিষ্ঠুরতা এবং ত্যাগের অভিযোগ এনে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন। আবেদনকারী স্বামীর দাবি ছিল, তাঁর স্ত্রী কোনো সঙ্গত কারণ ছাড়াই বারবার তাঁকে ছেড়ে চলে যেতেন, যা তাঁকে চরম মানসিক যন্ত্রণার মুখে ঠেলে দিয়েছিল। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্যামিলি কোর্ট বা পরিবার আদালত তাঁর এই আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপরই ন্যায়বিচারের আশায় তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ: হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি পর্যালোচনার সময় জানায় যে, নিষ্ঠুরতা বা মানসিক কষ্টকে কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখা উচিত নয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা আচরণের সামগ্রিক প্রভাব বিচার করা প্রয়োজন। আদালত আরও যোগ করে, বিবাহ একটি ধর্মীয় ও পারিবারিক বন্ধন যেখানে মানসিক ও আত্মিক বোঝাপড়া থাকা জরুরি। যদি এক পক্ষের আচরণ অন্য পক্ষের দৈনন্দিন জীবনে আতঙ্ক, বিরক্তি বা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক কষ্টের কারণ হয়, তবে আইনত তাকে ‘মানসিক নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য করা হবে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: নিম্ন আদালতের রায় পুনর্বিবেচনা করে হাইকোর্ট জানায় যে, দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতা এবং স্ত্রীর বারবার চলে যাওয়ার প্রবণতা প্রমাণ করে যে বিবাহটি কার্যত ভেঙে গেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিত নীতিমালা অনুসরণ করে আদালত শেষ পর্যন্ত বিবাহবিচ্ছেদ মঞ্জুর করে। হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, দাম্পত্য সম্পর্কের মৌলিক কাঠামোর অবক্ষয় ঘটলে তা বিচ্ছেদের একটি বৈধ আইনি ভিত্তি হতে পারে।

উপসংহার: এই রায়ের মাধ্যমে আদালত পুনরায় নিশ্চিত করল যে, বিবাহিত জীবনে কেবল শারীরিক নির্যাতনই নয়, বরং মানসিক চাপ এবং সঙ্গীকে অবজ্ঞা বা পরিত্যাগ করাও বিচ্ছেদের শক্তিশালী কারণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button