
কেরল হাইকোর্ট সম্প্রতি জানিয়েছে যে, বিদ্যমান ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর অ্যাক্ট, ১৯৪৮ (National Cadet Corps Act, 1948) অনুযায়ী, রূপান্তরকামী প্রার্থীরা ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (এনসিসি)-তে ভর্তির অধিকারী নন।
বিচারপতি এন নাগরেসের সিঙ্গল বেঞ্চ একজন রূপান্তরকামী (Transman) ছাত্রের এনসিসি-তে যোগদানের আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বর্তমান আইনে শুধুমাত্র ‘পুরুষ’ (male) এবং ‘মহিলা’ (female) শিক্ষার্থীদের ভর্তির অনুমতি রয়েছে, ফলে রূপান্তরকামী প্রার্থীদের জন্য কোনো আইনি বিধান নেই। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, “ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর অ্যাক্ট, ১৯৪৮-এ রূপান্তরকামীদের জন্য কোনো তুলনীয় বিধান নেই। তাই এই আইন অনুযায়ী, রূপান্তরকামী শিক্ষার্থীদের এনসিসি বিভাগে ভর্তি করা যাবে না।”
আদালত আরও মন্তব্য করেছে যে, যদিও রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের আদর্শগতভাবে এনসিসি-তে যোগদানের সমান সুযোগ দেওয়া উচিত, তবে এর জন্য আইন প্রণয়নমূলক এবং নির্বাহী ব্যবস্থা (legislative and executive action) প্রয়োজন। বিচারপতি নাগরেস উল্লেখ করেন, এনসিসি প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ক্যাডেটদের মাঠের পরিবেশে এবং সীমিত জায়গায় থাকতে হয়, যার মধ্যে শারীরিক অনুশীলন এবং ক্যাম্প অন্তর্ভুক্ত। প্রশিক্ষণের এই প্রকৃতির জন্য কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন লিঙ্গের ক্যাডেটদের সুস্থতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিতে হয়। তাই লিঙ্গ-ভিত্তিক ভিন্নতা অসাংবিধানিক বা স্বেচ্ছাচারী নয়।
আবেদনটি খারিজ করে দিলেও আদালত তার রেজিস্ট্রির মাধ্যমে রায়টির একটি প্রতিলিপি কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং কেন্দ্রীয় আইন ও বিচার মন্ত্রকের সচিবদের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে, যাতে তারা নীতি পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। উল্লেখ্য, এর আগে অন্য একটি মামলায় কেরল হাইকোর্ট একজন রূপান্তরকামী মহিলাকে (Transwoman) ‘মহিলা ক্যাডেট’ হিসেবে এনসিসি-তে ভর্তির অনুমতি দিয়েছিল।



