
নিশান্ত আগরওয়াল ছিলেন ব্রহ্মস অ্যারোস্পেসের একজন অত্যন্ত মেধাবী ইঞ্জিনিয়ার। তিনি ছিলেন এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থায় অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য এবং সিস্টেম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের মধ্যে একজন। তিনি ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মস সংক্রান্ত কাজে যুক্ত ছিলেন।
২০১৮ সালে উত্তরপ্রদেশের এটিএস (ATS) এবং মহারাষ্ট্র পুলিশের যৌথ অভিযানে তাঁকে নাগপুরের ব্রহ্মস ইউনিট থেকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তিনি রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার সঙ্গে জড়িত গোপন তথ্য পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ISI-এর কাছে পাচার করেছেন।
যেভাবে টার্গেট হয়েছিলেন নিশান্ত
তদন্তে জানা যায়, নিশান্ত আগরওয়ালকে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা একটি সাইবার ফাঁদ (Cyber Trap)-এর মাধ্যমে টার্গেট করেছিল।
-
ফেসবুক প্রোফাইল: পাকিস্তানি গোয়েন্দারা ছদ্মবেশে ভুয়ো ফেসবুক প্রোফাইল তৈরি করে। জানা যায়, দু’টি ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল— যার একটি ছিল ‘নেহা শর্মা’ এবং অন্যটি ‘পূজা রঞ্জন’ নামে। এই অ্যাকাউন্টগুলি পাকিস্তানের অবস্থান থেকে পরিচালিত হচ্ছিল।
-
টোপ ও চ্যাট: এই ভুয়ো প্রোফাইলগুলি ব্যবহার করে নিশান্তের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। চ্যাটের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তাঁর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং গোপনীয় তথ্য জানতে চাওয়ার চেষ্টা করা হয়।
-
সংবেদনশীল তথ্যের আদান-প্রদান: তদন্তে দেখা যায় যে নিশান্ত হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কিছু ফাইল বা তথ্য আদান-প্রদান করেছিলেন, যা আপাতদৃষ্টিতে খুব বেশি সংবেদনশীল না হলেও, ব্রহ্মস-এর একজন কর্মীর জন্য গোপনীয়তার নীতির পরিপন্থী ছিল।
৭ বছর পর মুক্তি
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর, বোম্বে হাইকোর্ট সম্প্রতি নিশান্ত আগরওয়ালকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছে। হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ করে যে, নিশান্তের সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার অসতর্ক ছিল, তবে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’-এর অধীনে প্রয়োজনীয় নিষিদ্ধ বা গোপনীয় তথ্য পাচারের কোনো অকাট্য প্রমাণ রাষ্ট্রপক্ষ দিতে পারেনি।
বোম্বে হাইকোর্টের এই রায় নিশান্ত আগরওয়ালের ৭ বছরের আইনি ও ব্যক্তিগত দুর্ভোগের অবসান ঘটায় এবং এটি উচ্চ পদাধিকারী কর্মীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারে আরও বেশি সতর্ক হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।



