শনি শিংণাপুর মন্দিরের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিল সুপ্রিম কোর্ট: জনস্বার্থ ও স্বচ্ছতায় বড় পদক্ষেপ

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক উল্লেখযোগ্য রায়ে মহারাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী ‘শ্রী শনািশ্বর দেবস্থান শনি শিংণাপুর মন্দির’-এর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সাময়িকভাবে সরকারি আধিকারিকের হাতে তুলে দিয়েছে। বম্বে হাইকোর্টের একটি নির্দেশকে স্থগিত করে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করেছে যে, মন্দিরের বিশাল অংকের অনুদান এবং ভক্তদের স্বার্থ রক্ষায় স্বচ্ছ প্রশাসন অপরিহার্য।
মামলার প্রেক্ষাপট
শনি শিংণাপুর মন্দিরের ট্রাস্ট পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছিল। গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বম্বে হাইকোর্ট একটি আদেশ দেয়, যেখানে মন্দিরের পূর্বতন ট্রাস্টের হাতে নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। মহারাষ্ট্র সরকার এই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানায়। সরকারের প্রধান যুক্তি ছিল যে, বর্তমান ট্রাস্টিদের মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হতে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে কয়েকশ কোটি টাকার অনুদান ও মন্দিরের বিপুল সম্পত্তি এমন ব্যক্তিদের হাতে ছেড়ে দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে যাদের পদের মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে।
সুপ্রিম কোর্টের শুনানি ও রায়
ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) সুর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলি-র সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করেন। শুনানির পর আদালত বম্বে হাইকোর্টের নির্দেশ স্থগিত করে নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করে:
-
প্রশাসনিক দায়িত্ব হস্তান্তর: মন্দিরের দৈনন্দিন পরিচালনার ভার সাময়িকভাবে নাসিক ডিভিশনাল কমিশনার-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটদের সহায়তায় মন্দিরের কার্যক্রম দেখাশোনা করবেন।
-
নতুন কমিটি গঠন: এই অস্থায়ী ব্যবস্থা ততক্ষণ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে যতক্ষণ না ‘শিংণাপুর ট্রাস্ট আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী একটি নতুন এবং স্থায়ী ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠিত হচ্ছে। আদালত সরকারকে দ্রুত একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে।
আদালতের উদ্বেগ ও পর্যবেক্ষণ
বিচারপতিরা মন্দিরের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আদালতের প্রধান পর্যবেক্ষণগুলো ছিল:
১. অনুদানের নিরাপত্তা: শত শত কোটি টাকার ভক্ত-অনুদান এমন ব্যক্তিদের হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয় যাদের মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এতে তহবিলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ২. রাজনৈতিক প্রভাব: আদালত মন্তব্য করেছে যে, ট্রাস্টিদের ওপর প্রায়ই রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করে, যা স্বচ্ছ প্রশাসনিক কাজে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ৩. জনস্বার্থ: ভক্তদের বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা এবং মন্দিরের সম্পত্তিকে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখার জন্য একজন দায়িত্বশীল সরকারি আধিকারিকের তত্ত্বাবধান জরুরি।
উপসংহার
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে শনি শিংণাপুর মন্দিরের ভক্তদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। এটি নিশ্চিত হয়েছে যে, নতুন কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত সরকারি নজরদারিতে মন্দিরের প্রশাসন পরিচালিত হবে, যা আর্থিক স্বচ্ছতা এবং ভক্তদের পরিষেবা নিশ্চিত করবে।



