
এলাহাবাদ হাইকোর্ট সম্প্রতি তফসিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন, ১৯৮৯ (SC/ST Act)-এর ‘মারাত্মক অপব্যবহার’ (Gross misuse) হয়েছে বলে মন্তব্য করে এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে। আদালত এ ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে পাওয়া ক্ষতিপূরণের পুরো অর্থ ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছে এবং অভিযুক্তদের ওপর ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য করেছে।
মামলার বিবরণ (Case Details)
- মামলার বিষয়: রেমেশ্বর সিং (Rameshar Singh) সহ ১৯ জন অভিযুক্তের দায়ের করা ফৌজদারি আপিল (Criminal Appeal)।
- আইনের ধারা: ভারতীয় দণ্ডবিধি (IPC)-এর বিভিন্ন ধারা এবং SC/ST আইনের ধারা ৩(২)(ভিএ)-এর অধীনে দায়ের করা মামলার সমন আদেশ (Summoning order) খারিজের আবেদন।
- প্রাথমিক অভিযোগ: একজন দলিত মহিলা এবং তাঁর দুই পুত্রবধূ অভিযোগ করেন যে অভিযুক্তরা তাঁদের আক্রমণ করেছে এবং তাঁদের শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে ফৌজদারি বলপ্রয়োগ করেছে (আইপিসির ধারা ৩৫৪-খ)।
- ক্ষতিপূরণ: SC/ST আইনের বিধান অনুযায়ী, অভিযোগকারী তিন মহিলা প্রত্যেকে ১.৫ লক্ষ টাকা করে মোট ৪.৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ বাবদ রাজ্য সরকারের কাছ থেকে পেয়েছিলেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও রায়
বিচারপতি শেখর কুমার যাদবের বেঞ্চ এই মামলাটি শুনেছিল। শুনানির সময় পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়:
১. অভিযোগ প্রত্যাহার: আদালতে যখন অভিযোগকারীকে প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনি জানান যে ফাঁকা কাগজে তাঁর টিপসই নেওয়া হয়েছিল এবং তিনিই যে এফআইআর দায়ের করেছেন, তা তিনি অস্বীকার করেন।
২. প্রমাণের অসঙ্গতি: অন্যদিকে, সরকারি আইনজীবী প্রমাণ দেন যে অভিযোগকারীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই এফআইআর দায়ের হয়েছিল এবং অভিযোগকারী ও তাঁর দুই পুত্রবধূ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ধারা ১৬৪ সিআরপিসি-এর অধীনে জবানবন্দিতেও অভিযোগগুলিকে সমর্থন করেছিলেন।
এই গুরুতর অসঙ্গতি লক্ষ্য করে আদালত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। আদালত মন্তব্য করে যে, একদিকে অভিযোগের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ নেওয়া হয়েছে, আবার পরে অভিযোগকারী সেই অভিযোগ অস্বীকার করছেন। আদালত এটিকে আইনের প্রক্রিয়ার গুরুতর অপব্যবহার এবং SC/ST আইনের জনহিতকর বিধানের মারাত্মক অপব্যবহার বলে অভিহিত করে।
আদালত স্পষ্ট জানায়, “এই ধরনের আচরণ রাজ্যের সঙ্গে একটি প্রতারণা (Fraud upon the State) করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়, যেখানে ভুলভাবে সরকারি তহবিল আত্মসাৎ করা হয়েছে।”
চূড়ান্ত আদেশ
- জরিমানা: আদালত অভিযুক্ত ১৯ জনের ওপর ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপ করে, যা তাদের অপরাধমূলক বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টার জন্য ধার্য করা হয়।
- ক্ষতিপূরণ ফেরত: অভিযোগকারী দলিত মহিলা ও তাঁর দুই পুত্রবধূকে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্ত পুরো ৪.৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের অর্থ অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
- আপিল খারিজ: অভিযুক্তদের দায়ের করা ফৌজদারি আপিলটি খারিজ করে দেওয়া হয়।
এই রায়ের মাধ্যমে আদালত কঠোর বার্তা দিয়েছে যে SC/ST আইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষার আইনগুলির অপব্যবহার কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।



