খবরাখবর

চুক্তিপত্র নেই? চিন্তা নেই! ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ নিয়ে বড় রায় এলাহাবাদ হাইকোর্টের

বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে কি কোনো লিখিত চুক্তি (Tenancy Agreement) নেই? অথবা চুক্তির বিষয়টি কি আপনি ‘রেন্ট অথরিটি’ বা ভাড়া সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষকে জানাননি? এমন পরিস্থিতিতেও ভাড়াটিয়া উচ্ছেদের আবেদন শুনতে পারবে আইনি কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি এক ঐতিহাসিক রায়ে এলাহাবাদ হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, লিখিত চুক্তির অভাব বা কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বাড়িওয়ালার আইনি অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না।

মামলার প্রেক্ষাপট

২০২১ সালের ‘উত্তরপ্রদেশ শহুরে আবাসিক ভাড়াটিয়া আইন’ (UP Regulation of Urban Premises Tenancy Act, 2021) নিয়ে তৈরি হওয়া একগুচ্ছ মামলার শুনানি চলাকালীন এই রায় দেন বিচারপতি রোহিত রঞ্জন আগরওয়াল। মূল প্রশ্ন ছিল—যদি বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে কোনো লিখিত চুক্তি না থাকে, তবে কি ‘রেন্ট অথরিটি’ সেই মামলার শুনানি করার ক্ষমতা (Jurisdiction) হারিয়ে ফেলে? অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কেবল লিখিত নথি না থাকায় কর্তৃপক্ষ আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। এই জটিলতা কাটাতেই হাইকোর্ট আইনের ব্যাখ্যা প্রদান করেছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও যুক্তি

বিচারপতি রোহিত রঞ্জন আগরওয়াল তাঁর রায়ে বলেন:

  • আইনের মূল উদ্দেশ্য: আইন তৈরি করা হয়েছে সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য, কেবল নথিপত্রের বেড়াজালে তাদের আটকে রাখার জন্য নয়। শুধুমাত্র ‘টেকনিক্যাল’ বা পদ্ধতিগত ভুলের কারণে কোনো মালিককে তাঁর ন্যায্য দাবি (যেমন উচ্ছেদ আবেদন) থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।

  • এখতিয়ারের সীমাবদ্ধতা: রেন্ট অথরিটির ক্ষমতা কেবল লিখিত চুক্তির ওপর নির্ভর করে না। আইনে এমন কোনো কঠোর ধারা নেই যা বলে যে চুক্তি না থাকলে আবেদন শোনা যাবে না।

  • বাস্তবতার প্রতিফলন: আদালত মনে করে, আইনকে তার সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে বিচার করা উচিত। যদি আইন প্রণেতারা চাইতেন যে চুক্তি ছাড়া কোনো অধিকার থাকবে না, তবে তা স্পষ্ট করে উল্লেখ থাকত। যেহেতু তা নেই, তাই বাস্তব সম্পর্কের ভিত্তিতেই বিচার হওয়া প্রয়োজন।

সাধারণ মানুষের জন্য এই রায়ের গুরুত্ব

এই রায় বাড়িওয়ালাদের জন্য এক বড় স্বস্তি। অনেক সময় পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে বা পুরনো সম্পর্কের খাতিরে বাড়িওয়ালারা লিখিত চুক্তি করেন না। পরে ভাড়াটিয়া ঘর ছাড়তে না চাইলে মালিকরা বিপাকে পড়েন। এখন থেকে: ১. লিখিত চুক্তি না থাকলেও বাড়িওয়ালা রেন্ট অথরিটির কাছে উচ্ছেদের আবেদন করতে পারবেন। ২. কেবল চুক্তির তথ্য কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি—এই অজুহাতে কোনো মামলা খারিজ করা যাবে না। ৩. আইনি প্রক্রিয়া আরও সহজ ও জনমুখী হবে।

উপসংহার: এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, বিচার ব্যবস্থা এখন অনেক বেশি বাস্তবমুখী। পদ্ধতিগত ত্রুটি বা নথিপত্রের অভাব যেন কারো ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, আদালত সেই বার্তাই দিয়েছে। এর ফলে উত্তরপ্রদেশের কয়েক লক্ষ বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া উপকৃত হবেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button