Others

দুর্ঘটনার পরেও দাখিল করা আয়কর রিটার্ন বৈধ: ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে সময় নয়, সত্যতাই আসল— সুপ্রিম কোর্ট

সুপ্রিম কোর্ট মোটর দুর্ঘটনা সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণের মামলায় এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে। শীর্ষ আদালত রায় দিয়েছে যে, কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পরেও যদি তাঁর নামে আয়কর রিটার্ন (ITR) দাখিল করা হয়, তবে কেবল দেরিতে জমা দেওয়ার কারণে সেই রিটার্ন বাতিল করা যাবে না। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে রিটার্নের সত্যতা বা মৌলিকতা (authenticity) যাচাই করা জরুরি, সময় নয়

বিচারপতি সঞ্জয় কারোলের এবং বিচারপতি এন. কোটেশ্বর সিং-এর সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ এই নীতিটি পুনর্ব্যক্ত করে।

এই মামলাটি ছিল ২০০৬ সালের একটি পথ দুর্ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত, যেখানে রাজস্থানের আজমিরের বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী রাজেন্দ্র সিং গেনা মারা যান। তাঁর আইনানুগ প্রতিনিধিরা দাবি করেন যে রাজেন্দ্র সিং পরিবহন ও কৃষিকাজ থেকে আয় করতেন। তাঁরা দুটি আইটিআর পেশ করেন— একটিতে বার্ষিক আয় ছিল ৮৪,০০০ টাকা (২০০৪-০৫) এবং অন্যটিতে ১,২৬,০০০ টাকা (২০০৫-০৬)।

মোটর অ্যাক্সিডেন্ট ক্লেইমস ট্রাইব্যুনাল এবং রাজস্থান হাইকোর্ট উভয়েই উচ্চ আয়ের আইটিআরটিকে (২০০৫-০৬ সালের) বিবেচনা করতে অস্বীকার করে। তাঁদের মূল আপত্তি ছিল যে রিটার্নটি মৃতের মৃত্যুর পরে দাখিল করা হয়েছে এবং এতে স্বাক্ষরের গরমিল রয়েছে। এর ফলে, ট্রাইব্যুনাল কম আয়ের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ ধার্য করেছিল, যা হাইকোর্ট সামান্য বৃদ্ধি করে ১৬.০১ লক্ষ টাকা করে।

সুপ্রিম কোর্টে আবেদনকারীরা দাবি করেন যে, হাইকোর্ট উচ্চ আয়ের আইটিআর বাতিল করে ভুল করেছে। সুপ্রিম কোর্ট এই প্রসঙ্গে পূর্ববর্তী মামলার উল্লেখ করে জানায় যে, দুর্ঘটনার আগেকার আর্থিক বছরের আইটিআর যদি ঘটনার পরে বা মৃত্যুর পরেও দাখিল করা হয়, তবে তা নীতিগতভাবে গ্রহণযোগ্য

তবে, এই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে, নিম্ন আদালত স্বাক্ষরের অসঙ্গতির কারণে আইটিআর-এর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ করার যে কারণ দেখিয়েছে, তা আদালত স্বীকার করে। কিন্তু একই সঙ্গে আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, ব্যবসায়িক আয় স্থির থাকে না, তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পায়। তাই মোটর ভেহিকেলস অ্যাক্টের অধীনে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের সময় ভবিষ্যতের আয়বৃদ্ধির সম্ভাবনা (Future Prospects) অবশ্যই বিবেচনা করা উচিত।

এই নীতি মাথায় রেখে সুপ্রিম কোর্ট মৃতের বার্ষিক আয় ১,০০,০০০ টাকা হিসেবে পুনরায় নির্ধারণ করে। এরপর ৩২ বছর বয়সী হওয়ায় তাঁর জন্য ৪০% ভবিষ্যৎ আয়ের সম্ভাবনা যোগ করে, ব্যক্তিগত খরচের জন্য এক-চতুর্থাংশ বাদ দিয়ে এবং উপযুক্ত গুণক (multiplier) প্রয়োগ করে মোট ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ১৯,০৯,৯০০ টাকা ধার্য করে, যা আগের দেওয়া ক্ষতিপূরণের তুলনায় অনেক বেশি। আদালত রায় দেয় যে, বর্ধিত এই অর্থ চার সপ্তাহের মধ্যে আবেদনকারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button