শিশুবিবাহে মুসলিম ব্যক্তিগত আইন নয়, পকসো ও শিশুবিবাহ নিষিদ্ধ আইনই প্রাধান্য পাবে: এলাহাবাদ হাইকোর্ট

মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের চেয়ে শিশুবিবাহ নিষেধ আইন, ২০০৬ (Prohibition of Child Marriage Act বা PCMA) এবং পকসো আইন, ২০১২ (POCSO Act)-এর বিধানই কার্যকর হবে বলে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, সংসদ যখন শিশুবিবাহ রোধ এবং শিশুদের যৌন নির্যাতন থেকে সুরক্ষার জন্য আইন করেছে, তখন কোনও ব্যক্তিগত আইন ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়ের বিয়ের অনুমতি দিতে পারে না।
বিচারপতি জে. জে. মুনির এবং বিচারপতি অচল সচদেবের ডিভিশন বেঞ্চ রুবি ও আরও ১৮ জনের দায়ের করা একটি রিট আবেদন খারিজ করে এই পর্যবেক্ষণ দেয়। আবেদনকারীরা বুলন্দশহরে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিয়ে আটকানোর ঘটনায় দায়ের হওয়া এফআইআর বাতিলের আবেদন করেছিলেন।
মামলার এফআইআর অনুযায়ী, পুলিশ ও চাইল্ডলাইন টিম খবর পায় যে বুলন্দশহরের সুনপেদা বক্সুওয়া গ্রামে প্রায় ১৬ বছর বয়সী সোনম নামে এক নাবালিকার বিয়ে হতে চলেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও চাইল্ডলাইন কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিয়ে বন্ধ করে এবং কিশোরীকে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির সামনে হাজির করার কথা জানায়।
অভিযোগ, সেই সময় ১৯ জন নাম উল্লেখ করা ব্যক্তি এবং প্রায় ৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি পুলিশ ও চাইল্ডলাইন কর্মীদের কাজে বাধা দেন, তাঁদের হুমকি ও গালিগালাজ করেন। এমনকি এক চাইল্ডলাইন কর্মীর কাছ থেকে জোর করে ওই কিশোরীকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করে। এই ঘটনার ভিত্তিতে আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের হয়।
আবেদনকারীদের আইনজীবীর দাবি ছিল, মুসলিম ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী কোনও মেয়ে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছালে, সাধারণভাবে ১৫ বছর বয়স থেকে, বিয়ের উপযুক্ত বলে ধরা হয়। তাই এই ক্ষেত্রে শিশুবিবাহ নিষেধ আইন মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের উপর প্রাধান্য পাবে না।
এই যুক্তি খারিজ করে হাইকোর্ট জানায়, PCMA এবং POCSO Act ধর্ম নির্বিশেষে দেশের সব নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। আদালত মন্তব্য করে, দেশের প্রতিটি নাগরিকের ক্ষেত্রে বিয়ের ন্যূনতম বয়স সেইটিই, যা শিশুবিবাহ নিষেধ আইনে নির্ধারণ করা হয়েছে।
আদালত আরও বলে, শরিয়ত আইনে বয়ঃসন্ধিকে বিয়ের উপযুক্ত বয়স হিসেবে ধরা হলেও, তা সরাসরি PCMA এবং POCSO Act-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়ের বিয়ে হলে সেই বৈবাহিক সম্পর্কে যৌন সম্পর্কও পকসো আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
হাইকোর্ট আরও জানায়, পুলিশ ও চাইল্ডলাইন টিম শিশুবিবাহ রুখতে সম্পূর্ণ আইন মেনেই কাজ করেছে। সরকারি দায়িত্ব পালনকালে তাঁদের বাধা দেওয়া, হুমকি দেওয়া এবং নাবালিকাকে জোর করে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তদন্তযোগ্য অপরাধ। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে এফআইআর বাতিল করার কোনও কারণ নেই।
ফলে আদালত রিট আবেদন খারিজ করে দেয়, আবেদনকারীদের দেওয়া অন্তর্বর্তী সুরক্ষা প্রত্যাহার করে এবং বুলন্দশহরের পুলিশ কর্তৃপক্ষকে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়।


