
বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে এবং বিচারব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে ব্রিটিশ আমলের পুরনো ও অপ্রাসঙ্গিক আইনগুলি ছেঁটে ফেলার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে মোদী সরকার। এই লক্ষ্যেই লোকসভায় ‘রিপিলিং অ্যান্ড অ্যামেন্ডিং বিল, ২০২৪’ (Repealing and Amending Bill, 2024) পেশ করলেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল। এই বিলের মূল লক্ষ্য হলো দেশের আইনি নথি থেকে মোট ৭৬টি এমন আইন মুছে ফেলা যা বর্তমানে আর কার্যকর নয়।
আইন বাতিলের উদ্দেশ্য: সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতের আইনি ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এমন অনেক আইন রয়েছে যেগুলি ব্রিটিশ যুগে তৈরি হয়েছিল অথবা যেগুলির প্রয়োজনীয়তা সময়ের সাথে সাথে ফুরিয়ে গেছে। এই অপ্রাসঙ্গিক আইনগুলি দেশের বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং অপ্রয়োজনীয় জটিলতা বাড়ায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার গত কয়েক বছরে এই ধরণের প্রায় দেড় হাজারেরও বেশি আইন বাতিল করেছে।
বিলের মূল বিষয়বস্তু: প্রস্তাবিত এই বিলের মাধ্যমে ৭৬টি আইনকে সম্পূর্ণ বাতিল (Scrap) করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
-
অনেকগুলি পুরনো ‘অ্যামেন্ডিং অ্যাক্ট’ (সংশোধনী আইন), যা মূল আইনের সঙ্গে মিশে যাওয়ায় বর্তমানে আলাদাভাবে অস্তিত্ব রাখার প্রয়োজন নেই।
-
এমন কিছু আইন যেগুলি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বলবৎ করা হয়েছিল এবং বর্তমানে যার মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়েছে।
-
আইন কমিশনের সুপারিশ মেনে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়া সংবিধিবদ্ধ আইনসমূহ।
সংসদীয় প্রক্রিয়া: আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল বিলটি পেশ করার সময় জানান, ‘ইজ অফ লিভিং’ বা জীবনযাত্রার মান সহজতর করা এবং আইনি স্বচ্ছতা বজায় রাখাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বিলটি লোকসভায় পাশ হওয়ার পর রাজ্যসভায় যাবে এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর এই ৭৬টি আইন চিরতরে বাতিল হয়ে যাবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অপ্রয়োজনীয় আইনের জঞ্জাল সাফ হলে সাধারণ মানুষের হয়রানি কমবে এবং বিচার বিভাগ মূল আইনগুলোর দিকে বেশি মনোযোগ দিতে পারবে। তবে বিরোধীদের একাংশ দাবি করেছেন যে, আইন বাতিলের পাশাপাশি নতুন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও নাগরিক স্বাধীনতার দিকে নজর রাখা উচিত।



