আইনশিক্ষা

মিথ্যা মামলা ও জাল প্রমাণ তৈরির দায়ে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা চালাতে অনুমতির প্রয়োজন নেই: সুপ্রিম কোর্ট

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট একটি যুগান্তকারী রায়ে ঘোষণা করেছে যে, কোনো পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা বা জাল প্রমাণ (fabricating evidence) তৈরির অভিযোগ উঠলে, ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC)-র ১৯৭ ধারা অনুযায়ী তাঁর বিচার শুরু করতে সরকারের পূর্বানুমতির (sanction) প্রয়োজন নেই।

শিরোনাম: সরকারি কর্তব্যের ছলে বেআইনি কাজ নয়

বিচারপতি জে.বি. পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, CrPC-এর ১৯৭ ধারাটি সরকারি কর্মচারীদের শুধুমাত্র তাঁদের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে করা কাজের ক্ষেত্রে সুরক্ষা প্রদান করে। কিন্তু মিথ্যা মামলা করা, প্রমাণ জাল করা, বা বেআইনিভাবে কাউকে আটক করা কোনোভাবেই একজন সরকারি কর্মচারীর আইনসম্মত দায়িত্ব হতে পারে না।

সুপ্রিম কোর্ট জোর দিয়ে বলেছে যে, এমন কাজগুলি সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং ১৯৭ ধারার সুরক্ষার আওতার বাইরে। বিচারপতি পারদিওয়ালা তাঁর রায়ে মন্তব্য করেন, “মিথ্যা মামলা দায়ের করা বা প্রমাণ জাল করা কোনো সরকারি কর্মচারীর দাপ্তরিক কর্তব্যের অংশ হতে পারে না।”

শিরোনাম: সুরক্ষার অপব্যবহার নিয়ে সতর্কতা

আদালত এই বিষয়ে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে যে, কোনো সরকারি কর্মচারী যেন ১৯৭ ধারার ঢাল ব্যবহার করে তাদের অবৈধ কাজকে আড়াল করতে না পারে। যদি তা করতে দেওয়া হয়, তবে তা আইনের শাসনকে ক্ষুণ্ণ করবে এবং সরকারি কর্মচারীদের তাদের পদের অপব্যবহার করে বেআইনি কার্যকলাপ চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে।

আদালত আরও উল্লেখ করেছে যে, কোনো ব্যক্তিকে মিথ্যা বক্তব্য দিতে ভয় দেখানো, সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া, বা জাল নথি তৈরি করার মতো কাজগুলি কোনো পরিস্থিতিতেই আইনি সুরক্ষা পেতে পারে না। ১৯৭ ধারার প্রযোজ্যতা মামলার নির্দিষ্ট তথ্য ও পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে স্থির করতে হবে।

শিরোনাম: দ্রুত মামলা খারিজের সমালোচনা ও বিচারের নির্দেশ

সুপ্রিম কোর্ট মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের একটি রায় খারিজ করে দিয়েছে, যেখানে হাইকোর্ট ভুলভাবে ১৯৭ ধারার অধীনে অনুমতির প্রয়োজনীয়তার কথা বলে খুন মামলায় জড়িতদের বাঁচাতে জালিয়াতির অভিযোগ থাকা পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাটি বাতিল করে দিয়েছিল।

শীর্ষ আদালত হাইকোর্টের দ্রুত মামলা খারিজ করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছে যে, এমন গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রিলিমিনারি স্টেজে (প্রাথমিক পর্যায়ে) মামলা খারিজ করা উচিত নয়। এর বদলে ট্রায়াল কোর্টে (নিম্ন আদালতে) প্রমাণ যাচাই করে দেখা উচিত যে, অভিযুক্ত কাজগুলি সরকারি কর্তব্যের অংশ ছিল কিনা।

এই রায়ের ফলে অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে মামলা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি আইনের কাছে সকলের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এবং ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের দ্বারা ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে বিচার বিভাগের অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button