
পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে ভোটার তালিকার যে বিশেষ নিবিড় পুনরীক্ষণ (Special Intensive Revision – SIR) প্রক্রিয়া চলছে, তার মধ্যে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন, ২০১৯ (CAA)-এর অধীনে ভারতীয় নাগরিকত্বের যোগ্য অভিবাসীরা (Migrants) ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন (Plea) দাখিল করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট সোমবার এই আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্র, নির্বাচন কমিশন (ECI) এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে নোটিস জারি করেছে এবং তাদের জবাব চেয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলাটি দ্রুত শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে।
মূল উদ্বেগ: নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার
এনজিও ‘আত্মদীপ’-এর পক্ষ থেকে দাখিল করা এই আবেদনে মূলত সেইসব হিন্দু, বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টান শরণার্থীদের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে, যারা ২০১৪ সালের আগে বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিয়েছেন।
-
নাগরিকত্বের আবেদন ঝুলে থাকা: আবেদনে বলা হয়েছে, এই যোগ্য অভিবাসীরা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা সত্ত্বেও, প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে তাদের আবেদনগুলি এখনও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।
-
ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার ভয়: যেহেতু SIR প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্বের চূড়ান্ত শংসাপত্র বা সার্টিফিকেট ছাড়া আবেদন রসিদকে প্রমাণ হিসাবে মানা হচ্ছে না, তাই এই প্রার্থীরা ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার গুরুতর আশঙ্কায় ভুগছেন।
আবেদনকারীরা সুপ্রিম কোর্টের কাছে দাবি জানিয়েছেন যে, এই অভিবাসীরা যেহেতু সিএএ দ্বারা সুরক্ষিত, তাই তাদের নাগরিকত্বের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেন ভোটার তালিকায় তাদের অস্থায়ী স্বীকৃতি (Provisional Recognition) দেওয়া হয়। তাদের যুক্তি, নাগরিকত্ব চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত অন্তত সীমিত নাগরিক অধিকার, যেমন ভোটাধিকার, তাদের নিশ্চিত করা উচিত।
কলকাতার একটি হাইকোর্ট প্রথমে এই এনজিও-র পিআইএল (PIL) বা জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিয়েছিল। এরপরই তারা সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এই নোটিস জারির ফলে এখন সিএএ-এর অধীনে যোগ্য অভিবাসীদের ভোটাধিকার সুরক্ষিত করার বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ বিচার বিভাগের অধীনে এলো।



