হাইকোর্ট

চেক বাউন্স মামলায় ছয় মাসের জেল বাতিল, ৩ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট

Shri Sudipta Ghosh v. State of West Bengal & Anr.

কলকাতা হাইকোর্ট একটি চেক বাউন্স মামলায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির ছয় মাসের কারাদণ্ড বাতিল করেছে। আদালত মনে করেছে, মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার শুরুতেই একটি গুরুতর প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ছিল, যা ন্যায়সঙ্গত বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। তবে অভিযোগকারীকে ৩ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ বহাল রাখা হয়েছে, কারণ ওই অর্থ ইতিমধ্যেই বিচার আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি উদয় কুমার CRR 3434 of 2022 মামলায় এই রায় দেন। আবেদনকারী সুদীপ্ত ঘোষ ট্রায়াল কোর্ট এবং আপিল আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। নিম্ন আদালত তাঁকে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট ১৩৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ছয় মাসের সাধারণ কারাদণ্ড এবং অভিযোগকারী চন্দনা পালকে ৩ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। পরে আপিল আদালতও সেই রায় বহাল রাখে।

হাইকোর্টে আবেদনকারীর দাবি ছিল, তাঁকে যে অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার করা হয়েছে, সেই অভিযোগ সম্পর্কে তাঁকে সঠিকভাবে জানানো হয়নি। কারণ, ফৌজদারি কার্যবিধির ২৫১ ধারার অধীনে অভিযোগের সারাংশ ব্যাখ্যা করার সময় আদালতে যে চেক নম্বর ও টাকার অঙ্ক উল্লেখ করা হয়েছিল, তা মামলার প্রকৃত চেক ও টাকার সঙ্গে মিলছিল না।

মামলার নথি খতিয়ে দেখে বিচারপতি উদয় কুমার দেখতে পান, অভিযুক্তকে ১.৫ লক্ষ টাকার চেকের পরিবর্তে ৫ লক্ষ টাকার একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন চেক সংক্রান্ত অভিযোগ জানানো হয়েছিল। আদালত স্পষ্ট করে জানায়, এটিকে শুধুমাত্র লেখার ভুল বা কারিগরি ত্রুটি বলা যাবে না। বরং এটি বিচারপ্রক্রিয়ার মূল ভিত্তিকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।

আদালত পর্যবেক্ষণ করে, একজন অভিযুক্তকে যে অভিযোগের বিরুদ্ধে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে বলা হবে, শেষ পর্যন্ত যদি সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়, তবে তা ন্যায়সঙ্গত বিচারের নীতির পরিপন্থী।

তবে আদালত আবেদনকারীর এই দাবি খারিজ করে যে, ঋণের দাবি সময়সীমা অতিক্রম করেছিল। আদালতের মতে, স্বাক্ষরিত চেক ইস্যু করা নিজেই দায় স্বীকারের সমতুল্য, ফলে সীমাবদ্ধতার সময়সীমা নতুন করে শুরু হয়। এছাড়া আইনি নোটিস আবেদনকারীর অফিসের ঠিকানায় পাঠানো হয়েছিল এবং তা যথাযথভাবে গ্রহণ করা হয়েছিল বলেও আদালত জানায়।

অন্যদিকে, অভিযোগকারীর আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে আদালত প্রশ্ন তোলে। কারণ, জেরার সময় তিনি জানান যে তিনি বেকার ছিলেন এবং ঋণের টাকা তাঁর বাবার কাছ থেকে এসেছিল। কিন্তু তাঁর বাবাকে সাক্ষী হিসেবে হাজির করা হয়নি বা কোনও সমর্থনকারী নথিও জমা দেওয়া হয়নি।

তবে আদালত নতুন করে বিচার শুরু করার নির্দেশ দেয়নি। কারণ, মামলাটি ২০০৬ সালে শুরু হয়েছিল এবং প্রায় দুই দশক কেটে গেছে। পাশাপাশি আবেদনকারী ইতিমধ্যেই আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ৩ লক্ষ টাকা জমা দিয়েছেন। তাই আদালত ছয় মাসের কারাদণ্ড বাতিল করে, ক্ষতিপূরণের নির্দেশ বহাল রাখে, অভিযোগকারীকে সেই অর্থ তুলে নেওয়ার অনুমতি দেয় এবং মামলার কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা করে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button