প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকলে বিশেষ বিবাহ আইনে দ্বিতীয় বিয়ে অবৈধ, হাইকোর্টের রায়
অবৈধ বিবাহের কারণে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি নয়, মেয়ের অধিকার বহাল রাখল আদালত

বিশেষ বিবাহ আইন, ১৯৫৪-এর অধীনে সম্পন্ন হওয়া কোনও বিয়ে তখনই বৈধ হবে, যখন বিয়ের সময় উভয় পক্ষের কারও জীবিত স্বামী বা স্ত্রী থাকবে না। এই গুরুত্বপূর্ণ আইনি নীতি পুনর্ব্যক্ত করে কর্ণাটক হাইকোর্ট এক মহিলাকে মৃত ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধি (লিগ্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন খারিজ করেছে। তবে ওই সম্পর্ক থেকে জন্ম নেওয়া মেয়েকে মামলার পক্ষ হিসেবে বহাল রাখার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।
বিচারপতি সচিন শঙ্কর মাগাদুম তাঁর রায়ে বলেন, বিশেষ বিবাহ আইনের বাধ্যতামূলক শর্ত লঙ্ঘন করে সম্পন্ন হওয়া কোনও বিবাহ আইনগতভাবে বৈধ হতে পারে না। ফলে ওই নারী নিজেকে মৃত ব্যক্তির বিধবা হিসেবে দাবি করতে পারবেন না। তবে অবৈধ বিবাহ থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানের আইনগত অধিকার আইন দ্বারা সুরক্ষিত থাকবে।
মামলাটি বল্লারির প্রিন্সিপাল সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে বিচারাধীন একটি সম্পত্তি বণ্টন (পার্টিশন) সংক্রান্ত মামলাকে কেন্দ্র করে। মামলার এক বিবাদী ১৪ মার্চ ২০২৪ সালে মারা যান।
এরপর এক মহিলা আদালতে আবেদন করে দাবি করেন, তিনি মৃত ব্যক্তির স্ত্রী। তাই তাঁকে এবং তাঁর মেয়েকে মৃত ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধি হিসেবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক। তিনি দাবি করেন, ২০০৮ সালের এপ্রিল মাসে বিশেষ বিবাহ আইনের অধীনে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। সেই দাবির সমর্থনে তিনি একটি বিবাহের শংসাপত্রও আদালতে জমা দেন।
প্রথমে ট্রায়াল কোর্ট তাঁর আবেদন মঞ্জুর করেছিল। কিন্তু পরে কর্ণাটক হাইকোর্ট সেই আদেশ বাতিল করে আবেদনকারীদের প্রকৃত আইনগত অবস্থান যাচাই করার নির্দেশ দেয়। নতুন করে তদন্তের পর ট্রায়াল কোর্ট দেখতে পায়, মৃত ব্যক্তির প্রথম স্ত্রী তখনও জীবিত ছিলেন এবং সেই বিবাহ বহাল ছিল। ফলে দ্বিতীয় বিয়ে বিশেষ বিবাহ আইনের অধীনে আইনত অবৈধ। তাই মহিলাকে আইনগত প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন খারিজ করা হয়। তবে তাঁদের মেয়েকে মামলার পক্ষ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার অনুমতি দেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই মহিলা আবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
মামলার শুনানিতে বিচারপতি মাগাদুম বিশেষ বিবাহ আইনের ৪(ক) ধারা বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন। আদালত জানায়, এই ধারায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, বিয়ের সময় কোনও পক্ষেরই জীবিত স্বামী বা স্ত্রী থাকতে পারবে না। এটি একটি বাধ্যতামূলক শর্ত এবং এর কোনও ব্যতিক্রমের সুযোগ নেই।
আদালত আরও উল্লেখ করে, আবেদনকারী নিজেই হলফনামায় স্বীকার করেছেন যে তিনি মৃত ব্যক্তির দ্বিতীয় স্ত্রী এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী জীবিত ছিলেন। এই স্বীকারোক্তির পর আর কোনও বিতর্কের সুযোগ থাকে না। ফলে দ্বিতীয় বিবাহটি সরাসরি বিশেষ বিবাহ আইনের ৪(ক) ধারা লঙ্ঘন করেছে।
রায়ে আদালত আরও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে জানায়, কেউ যদি বিশেষ বিবাহ আইনের অধীনে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সেই বিয়ের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে এই আইনের বিধানই প্রযোজ্য হবে। কোনও ব্যক্তিগত আইন (পার্সোনাল ল) একাধিক বিয়ের অনুমতি দিলেও, তা বিশেষ বিবাহ আইনের বাধ্যতামূলক শর্তকে অগ্রাহ্য করতে পারে না।
এই কারণেই আদালত মনে করে, আবেদনকারী মৃত ব্যক্তির আইনগত বিধবা নন। ফলে তিনি মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রতিনিধিত্ব করার বা তাঁর আইনগত প্রতিনিধি হিসেবে পার্টিশন মামলায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অধিকার রাখেন না।
তবে আদালত একই সঙ্গে ট্রায়াল কোর্টের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে জানায়, অবৈধ বিবাহ থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানদের আইনগত অধিকার রয়েছে এবং তারা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আদালতে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। তাই আবেদনকারীর মেয়েকে মামলার পক্ষ হিসেবে বহাল রাখা হবে।
সবশেষে কর্ণাটক হাইকোর্ট জানায়, ট্রায়াল কোর্টের আদেশে কোনও আইনি ত্রুটি বা এখতিয়ারগত ভুল নেই। তাই রিট আবেদন খারিজ করা হলো এবং সম্পত্তি বণ্টনের মামলাটি আইন অনুযায়ী চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো।
কেস টাইটেল: K. M. v. M. A. B. & Others



