“বৈষম্যকে ঐতিহ্যের আড়ালে লুকানো যায় না”: দলিত কলোনিতে মন্দির রথ ঘোরানোর নির্দেশ মাদ্রাজ হাইকোর্টের

মাদ্রাজ হাইকোর্ট একটি ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে কাঞ্চিপুরম জেলার মুথু কোলাক্কি আম্মান মন্দিরের বার্ষিক উৎসবের রথ অবশ্যই দলিত কলোনির উপর দিয়ে যেতে হবে। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে কোনো ঐতিহ্য বা প্রথা কোনো সম্প্রদায়কে পূজা থেকে দূরে রাখতে বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে বাধা দিতে পারে না।
বিচারপতি পি.বি. বালাজির বেঞ্চ ৭ নভেম্বর এই রায় দেন। আদালত দৃঢ়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে: “বিশ্বাসকে জাতি বা ধর্ম দিয়ে বেড়া দেওয়া যায় না এবং দেবত্বকে মানুষের কুসংস্কার দিয়ে আবদ্ধ করা যায় না। ঈশ্বর কেবল নির্দিষ্ট কিছু রাস্তায় থাকেন না। কোনো রাস্তাই রথ বা রথের বহন করা দেবতার জন্য অযোগ্য নয়। তাই বৈষম্যকে ঐতিহ্যের পবিত্রতায় মোড়ানো যায় না।”
পুথাগারাম গ্রামের দলিত সম্প্রদায়ের বাসিন্দা সেলভারাজ এই আবেদনটি দায়ের করেন। তিনি দাবি করেন যে উচ্চবর্ণের হিন্দুরা দীর্ঘদিন ধরে দলিতদের মন্দিরের আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাধা দিচ্ছে এবং তাদের এলাকায় রথ প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।
যদিও সরকারি কর্মকর্তারা দাবি করেন যে দলিতদের মন্দির প্রবেশে বা উৎসবে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই, তবে উচ্চবর্ণের বেসরকারি উত্তরদাতারা রথের ঐতিহ্যবাহী পথে পরিবর্তন আনার বিরোধিতা করেন। তাদের যুক্তি ছিল, এই প্রথা বহু দশক ধরে চলে আসছে এবং পরিবর্তন করলে অন্যান্য গোষ্ঠীর থেকেও একই রকম দাবি উঠতে পারে।
এর জবাবে বিচারপতি বালাজি বলেন, “আমরা সমাজ হিসেবে সময়ের সাথে সাথে বিবর্তিত হয়েছি এবং বহু পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিয়েছি। তাই প্রচলিত প্রথা, ঐতিহ্য ও অনুশীলনের দোহাই দিয়ে পরিবর্তনকে প্রতিহত করা বেসরকারি উত্তরদাতাদের জন্য কোনো বৈধ প্রতিরক্ষা হতে পারে না।”
আদালত এই বিষয়ে একটি যৌথ পরিদর্শন করার জন্য কাঞ্চিপুরম জেলা কালেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছিল। কালেক্টর তার প্রতিবেদনে জানান যে রথের পথটি দলিত কলোনি পর্যন্ত বাড়ানো প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব এবং এটি উৎসবের ঐতিহাসিক চরিত্রকে প্রভাবিত করবে না।
কালেক্টরের রিপোর্ট গ্রহণ করে আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করে এবং নতুন সংহত পথটি অনুমোদন করে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে উৎসবের পরীক্ষামূলক এবং মূল উভয় রথযাত্রা অবশ্যই এই নতুন পথে চলবে। সেই সঙ্গে পুলিশকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়ার এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এই রায়ের মাধ্যমে মাদ্রাজ হাইকোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিল যে, ধর্মীয় স্থানে সকলের সমান অংশগ্রহণের অধিকার একটি মৌলিক বিষয়, যার উপর ‘ঐতিহ্য’ বা ‘প্রথা’-এর অজুহাতে বৈষম্য চাপানো যেতে পারে না। ব্যাপারটা এমন—ধর্মীয় রথের চাকা কেবল নির্দিষ্ট রাস্তায় ঘুরবে, আর বৈষম্যের চাকা ঘোরার দিন শেষ!



