খবরাখবর

ভোটার তালিকা সংশোধনে রাজ্য ও কমিশনের মধ্যে ‘আস্থার অভাব’, পশ্চিমবঙ্গে বিচারবিভাগীয় অফিসার নিয়োগের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ নিয়ে রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের (ECI) মধ্যে তৈরি হওয়া টানাপোড়েনে নজিরবিহীন হস্তক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের উচ্চতম আদালত জানিয়েছে, রাজ্য প্রশাসন ও কমিশনের মধ্যে ‘আস্থার অভাব’ (Trust Deficit) প্রকট হয়ে উঠেছে, যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) বা বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রতিটি জেলায় বিচারবিভাগীয় অফিসারদের (Judicial Officers) তদারকির দায়িত্ব দিয়েছে আদালত।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশ: বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চালীর বিশেষ বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ভোটার তালিকার অসংগতি দূর করার জন্য যে আধা-বিচারবিভাগীয় (Quasi-judicial) প্রক্রিয়ার প্রয়োজন, তা বর্তমানে কমিশনের নির্বাচনী রেজিস্ট্রেশন অফিসাররা (EROs) যথাযথ সহযোগিতার অভাবে সম্পন্ন করতে পারছেন না।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে প্রতিটি জেলার জন্য বর্তমান অথবা অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ (ADJ) পর্যায়ের বিচারকদের নিয়োগ করা হয়। তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে ভোটার তালিকার অমিল বা অভিযোগগুলো (Discrepancy list) খতিয়ে দেখবেন এবং তাঁদের দেওয়া সিদ্ধান্ত আদালতের আদেশ হিসেবেই গণ্য হবে।

রাজ্য সরকারকে কড়া বার্তা: শুনানি চলাকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে কঠোর বার্তা দিয়ে আদালত জানায়, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো সংবেদনশীল কাজে পুলিশ প্রশাসন ও প্রয়োজনীয় অফিসার সরবরাহ করে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট এই সংশোধনী প্রক্রিয়ায় সমর্থন দিলেও ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যের পাঠানো উত্তরকে ‘অসন্তোষজনক’ বলে অভিহিত করেছে বেঞ্চ। বিচারপতিরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই ‘অসাধারণ পরিস্থিতিতে’ বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপ ছাড়া স্বচ্ছ তালিকা তৈরি করা সম্ভব নয়।

প্রক্রিয়ার গতিপ্রকৃতি: নিযুক্ত বিচারকদের সহায়তার জন্য কমিশন ও রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় কর্মী দেবে। এই কাজের গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রয়োজনে অন্যান্য মামলার শুনানি ১০ দিন পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও আদালত মাথায় রেখেছে। মূল লক্ষ্য হলো, ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে কোনো প্রকার রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব ছাড়াই একটি নির্ভুল ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button