
২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লি দাঙ্গা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ছাত্রনেতা শরজিল ইমামকে ১০ দিনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিল দিল্লির একটি আদালত। মূলত ভাইয়ের বিয়েতে যোগ দেওয়ার জন্য মানবিক খাতিরে আদালত এই সাময়িক মুক্তি মঞ্জুর করেছে।
আদালতের নির্দেশ ও সময়সীমা
দিল্লির কর্কারডুমা আদালতের অতিরিক্ত সেশনস জজ সমীর বাজপেয়ী এই আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, শরজিল ইমাম আগামী ২০ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত জামিনে মুক্ত থাকতে পারবেন। উল্লেখ্য, শরজিল ছয় সপ্তাহের জন্য জামিন চেয়েছিলেন, কিন্তু আদালত তার আবেদন আংশিক মঞ্জুর করে মাত্র ১০ দিনের অনুমতি দিয়েছে।
জামিনের কঠোর শর্তাবলি
আদালত এই জামিন মঞ্জুরের পাশাপাশি বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে:
-
বন্ড: তাকে ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং সমপরিমাণ অর্থের দুইজন জামিনদার দিতে হবে।
-
সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া: জামিন থাকাকালীন তিনি কোনোভাবেই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (Social Media) ব্যবহার করতে পারবেন না।
-
নিষেধাজ্ঞা: মামলার কোনো সাক্ষী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা তার জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তিনি শুধুমাত্র তার পরিবার ও নিকটাত্মীয়দের সঙ্গেই সময় কাটাতে পারবেন।
পটভূমি ও অভিযোগ
শরজিল ইমাম ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস থেকে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। ২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লির ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পেছনে “বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের” অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই দাঙ্গায় অন্তত ৫৩ জন প্রাণ হারান এবং ৭০০-র বেশি মানুষ আহত হন। তার বিরুদ্ধে কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইন UAPA (Unlawful Activities Prevention Act)-সহ একাধিক ধারায় মামলা চলছে।
অন্যান্য কিছু মামলায় তিনি আগে জামিন পেলেও, মূল ষড়যন্ত্রের এই মামলায় তিনি বিচারাধীন বন্দি হিসেবেই জেল খাটছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট শরজিল এবং উমর খালিদের নিয়মিত জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। তবে এবার পারিবারিক কারণে সীমিত সময়ের জন্য এই স্বস্তি পেলেন তিনি।



