খবরাখবর

পিএফআই প্রতিষ্ঠাতা ই. আবুবকরের জামিন ফের খারিজ, ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘ইসলামিক খিলাফত’ প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র মামলায় দিল্লি আদালতের কড়া অবস্থান

NIA vs E. Abubacker & Others (PFI Conspiracy Case)

দিল্লির একটি বিশেষ এনআইএ আদালত পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়া (পিএফআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ই. আবুবাকরের নিয়মিত জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) অভিযোগ, পিএফআইয়ের শীর্ষ নেতৃত্ব ভারতের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ২০৪৭ সালের মধ্যে শরিয়াভিত্তিক একটি ইসলামিক খিলাফত প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল।

বিশেষ এনআইএ বিচারক প্রাশান্ত শর্মা ১৫ জুলাইয়ের আদেশে বলেন, আবুবাকরের আগের জামিন আবেদনগুলি ইতিমধ্যেই খারিজ হয়েছে এবং এরপর এমন কোনও নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি, যার ভিত্তিতে তাঁকে জামিন দেওয়া যেতে পারে। আদালত স্পষ্ট জানায়, বর্তমান আবেদন মঞ্জুর করার মতো কোনও কারণ নেই।

জামিনের আবেদনে আবুবাকরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে, বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে শক্ত প্রমাণ নেই। এছাড়া অভিযোগ গঠন সম্পন্ন হওয়ায় দীর্ঘদিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখা ন্যায্য নয় বলেও যুক্তি দেওয়া হয়।

তবে আদালত এই যুক্তি গ্রহণ করেনি। বিচারক বলেন, বিচার বিলম্বিত হওয়ার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে প্রতিরক্ষা পক্ষ কোনও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। ফলে শুধুমাত্র বিচার বিলম্বের যুক্তিতে জামিন দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে না।

এনআইএর পক্ষ থেকে বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি রাহুল ত্যাগী আদালতে জানান, তদন্তে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়ার পরই অভিযোগ গঠন করা হয়েছে এবং আবুবাকর কারাগারে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও পাচ্ছেন। আদালত দিল্লি হাইকোর্টের আগের জামিন প্রত্যাখ্যানের আদেশের কথাও উল্লেখ করে জানায়, নতুন কোনও পরিস্থিতি না থাকায় ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। এটি ছিল আবুবাকরের তৃতীয় জামিন আবেদন, যা খারিজ হলো।

এর কয়েক দিন আগেই একই আদালত পিএফআই এবং সংগঠনের ২৫ জন সদস্যের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি (IPC) ও বেআইনি কার্যকলাপ (নিবারণ) আইন (UAPA)-এর বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেয়। সেই আদেশে আদালত মন্তব্য করেছিল, তদন্তে সংগৃহীত নথিপত্রে এমন গুরুতর সন্দেহের ভিত্তি রয়েছে যে, অভিযুক্তরা পিএফআইয়ের মাধ্যমে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে ২০৪৭ সালের মধ্যে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে শরিয়াভিত্তিক ইসলামিক খিলাফত প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন।

২০২২ সালের ১৩ এপ্রিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে এনআইএ এই মামলা দায়ের করে। পরে দেশজুড়ে অভিযানে পিএফআইয়ের একাধিক নেতাকে গ্রেফতার করা হয় এবং কেন্দ্র সরকার সংগঠনটিকে বেআইনি ঘোষণা করে। এনআইএর অভিযোগ, অভিযুক্তরা যুবকদের উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ করা, সন্ত্রাসবাদী প্রশিক্ষণ শিবির পরিচালনা, সন্ত্রাসে অর্থ জোগান এবং সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। অভিযোগ গঠন সম্পন্ন হওয়ায় চলতি মাসের শেষের দিকে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শুরু হওয়ার কথা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button