ডেলিভারির সময় বাড়িতে ঢুকে যৌন হেনস্তার অভিযোগ, বেঙ্গালুরুতে ফ্লিপকার্টের ডেলিভারি কর্মী গ্রেফতার
State v. Vijay Mallikarjun Kamath (Marathahalli Police Station FIR)

বেঙ্গালুরুতে এক মহিলার বাড়িতে ডেলিভারি দিতে গিয়ে যৌন হেনস্তার অভিযোগে ফ্লিপকার্টের এক ডেলিভারি কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের নাম বিজয় মল্লিকার্জুন কামাথ। মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে মারাঠাহল্লি থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ৭৫, ৭৯ এবং ৩২৯(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ধারাগুলি যৌন হেনস্তা, অশালীন অঙ্গভঙ্গি বা কথার মাধ্যমে নারীর শালীনতায় আঘাত এবং বেআইনিভাবে বাড়িতে প্রবেশের অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
হোয়াইটফিল্ডের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) এক বিবৃতিতে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ডেলিভারি কর্মী একটি পার্সেল পৌঁছে দিতে মহিলার বাড়িতে যান। সেই সময় তিনি বাড়ির শৌচাগার ব্যবহার করার অনুমতি চান। মহিলা জানান, তিনি একাধিকবার সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন এবং স্পষ্টভাবে বলেন যে তিনি কোনও অচেনা ব্যক্তিকে বাড়ির ভিতরে ঢুকতে দেন না। প্রয়োজনে পাশের ফ্ল্যাটের পুরুষ প্রতিবেশীদের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শও দেন।
অভিযোগ, মহিলার আপত্তি সত্ত্বেও ডেলিভারি কর্মী জুতো খুলে জোর করে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করেন এবং শৌচাগারে যান। এরপর বাইরে এসে তিনি মহিলার সামনে নিজের গোপনাঙ্গ প্রদর্শন করেন। এই ঘটনায় তিনি আতঙ্কিত ও অপমানিত বোধ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
মহিলা সামাজিক মাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, তাঁর স্পষ্ট “না” বলা সত্ত্বেও অভিযুক্ত সেই সীমারেখা লঙ্ঘন করেছেন। পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে আশঙ্কা করে তিনি মোবাইল ফোনের ক্যামেরা চালু করেন, বাড়ির দরজা খোলা রাখেন এবং দরজার কাছেই দাঁড়িয়ে থাকেন, যাতে প্রয়োজনে বাইরে বেরিয়ে সাহায্য চাইতে পারেন।
ঘটনার পর ফ্লিপকার্ট এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত এবং গ্রাহককে সব ধরনের সহায়তা করছে। সংস্থা জানায়, বিষয়টি জানার পরই অভিযুক্ত ডেলিভারি পার্টনারের সঙ্গে তাদের কাজের সম্পর্ক বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি, পুলিশি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার আশ্বাসও দিয়েছে সংস্থা।
ফ্লিপকার্ট আরও জানিয়েছে, ডেলিভারি কর্মীদের কাজে নেওয়ার আগে তাঁদের ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন এবং বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তবে এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল হলেও একটি ঘটনাও গ্রহণযোগ্য নয়। তাই ভবিষ্যতে গ্রাহকদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ, অতিরিক্ত বয়ান রেকর্ডসহ ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আর কোনও সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।



