হাইকোর্ট

তদন্তের অজুহাতে নাগরিকের গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘন করা যায় না: মহারাষ্ট্র সরকারকে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ বম্বে হাইকোর্টের

Khushbu & Anr. v. State of Maharashtra & Ors

বম্বে হাইকোর্ট গুরুত্বপূর্ণ এক রায়ে বলেছে, কোনও অপরাধের তদন্ত চলছে—এই অজুহাতে পুলিশ কোনও নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করতে পারে না। বিশেষ করে, আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কোনও মহিলার বাড়িতে প্রবেশ, তাঁর শোবার ঘরে ঢোকা বা মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মর্যাদার গুরুতর লঙ্ঘন।

বিচারপতি উর্মিলা জোশী ফালকে এবং বিচারপতি নিবেদিতা পি. মেহতার ডিভিশন বেঞ্চ ৩ জুলাই ২০২৬-এ এই রায় দেয়। আদালত মহারাষ্ট্র সরকারকে আবেদনকারী মহিলা খুশবুকে সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের অধীনে তাঁর গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘনের জন্য ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে আদালত জানায়, সরকার চাইলে এই অর্থ সংশ্লিষ্ট দায়ী পুলিশকর্মীদের কাছ থেকে আদায় করতে পারবে।

মামলাটি করেন খুশবু এবং তাঁর স্বামী ইদ্দ্রিশ খান। তাঁদের অভিযোগ, ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ খাপা থানার পুলিশ একটি সড়ক দুর্ঘটনার তদন্তের অজুহাতে তাঁদের সিল্লেওয়াডার বাড়িতে প্রবেশ করে। সেই সময় ইদ্দ্রিশ খানের নাম এফআইআর-এ অভিযুক্ত হিসেবেও ছিল না। তবুও পুলিশ কোনও তল্লাশি পরোয়ানা ছাড়াই বাড়িতে ঢোকে।

আবেদনকারীদের দাবি, অভিযানে কোনও মহিলা পুলিশকর্মী উপস্থিত ছিলেন না। পুলিশ মহিলার শোবার ঘরে প্রবেশ করে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং কোনও জব্দ তালিকা (সিজার মেমো), স্বাধীন সাক্ষী বা রসিদ ছাড়াই তাঁর মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।

পুলিশের দাবি ছিল, চলমান তদন্তের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে হাইকোর্ট সেই যুক্তি খারিজ করে জানায়, তদন্তের উদ্দেশ্য কখনও বেআইনি তল্লাশি বা জব্দকে বৈধতা দিতে পারে না। তদন্তকারী সংস্থাকে অবশ্যই আইনের সীমার মধ্যেই কাজ করতে হবে।

আদালত মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখতে পায়, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS), ২০২৩-এর একাধিক বাধ্যতামূলক বিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে। আদালতের মতে, ওয়ারেন্ট ছাড়া তল্লাশির আগে লিখিত কারণ লিপিবদ্ধ করা হয়নি, তল্লাশির অডিও-ভিডিও রেকর্ড করা হয়নি এবং নির্ধারিত সময়ে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছেও তা জমা দেওয়া হয়নি। এছাড়া মোবাইল ফোন জব্দের সময় কোনও স্বাধীন সাক্ষী রাখা হয়নি এবং আবেদনকারীকে কোনও রসিদও দেওয়া হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে আদালত অবিলম্বে খুশবুর মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি দুই মাসের মধ্যে ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধ না করলে বার্ষিক ৮ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে বলেও আদালত জানিয়েছে।

রায়ে হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছে, অর্থ দিয়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মর্যাদা লঙ্ঘনের ক্ষতি পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে এই ক্ষতিপূরণ একদিকে ভুক্তভোগীকে কিছুটা স্বস্তি দেবে, অন্যদিকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে স্মরণ করিয়ে দেবে যে তদন্তের ক্ষমতা সবসময় আইনের সীমার মধ্যেই প্রয়োগ করতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button