E20 জ্বালানির উপযোগী নয় এমন গাড়ি বিক্রি, মারুতি সুজুকি ও ডিলারকে নতুন গাড়ি দেওয়ার নির্দেশ ভোক্তা কমিশনের
Dr. Premraj Devta v. Nexa Magneto (Sky Automobiles) & Maruti Suzuki India Ltd

ছত্তীসগড়ের রায়পুর জেলা ভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন মারুতি সুজুকি ইন্ডিয়া লিমিটেড এবং তাদের ডিলারকে নির্দেশ দিয়েছে, একজন গ্রাহকের Maruti Grand Vitara Strong Hybrid Zeta Plus গাড়িটি ৪৫ দিনের মধ্যে একই মডেলের E20 জ্বালানির উপযোগী নতুন গাড়ির সঙ্গে বদলে দিতে হবে। কমিশনের মতে, E20-সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন গাড়ি বিক্রি করা পরিষেবায় ত্রুটি (Deficiency in Service) এবং অন্যায্য বাণিজ্যিক অনুশীলনের (Unfair Trade Practice) শামিল।
কমিশনের অতিরিক্ত বেঞ্চের সভাপতি প্রশান্ত কুন্ডু এবং সদস্য ড. আনন্দ ভার্গিস এই নির্দেশ দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গাড়ি বদল না করলে মারুতি সুজুকি এবং ডিলারকে মোট ২০,৫০,৪৯৪ টাকা ফেরত দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে গাড়ির মূল্য ১৮,২৯,০০০ টাকা, আরটিও চার্জ ১,৮৬,৮৫০ টাকা এবং বিমার প্রিমিয়াম ৩৪,৬৪৪ টাকা।
এই অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ড. প্রেমরাজ দেবতা। তিনি ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তৈরি একটি Maruti Grand Vitara Strong Hybrid Zeta Plus 1.5 গাড়ি কিনেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, গাড়িটি বারবার চলার সময় বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল, কারণ এর ইঞ্জিন E20 পেট্রোল, অর্থাৎ ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।
অভিযোগে বলা হয়, একাধিকবার জ্বালানি বদলানো, ফুয়েল ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করা এবং নতুন পেট্রোল ভরার পরও একই সমস্যা থেকে যায়। ফলে তাঁকে বারবার গাড়িটি ডিলারের সার্ভিস সেন্টারে নিয়ে যেতে হয়।
ডিলার এবং মারুতি সুজুকির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, সমস্যার কারণ নিম্নমানের জ্বালানি। তবে অভিযোগকারী বলেন, আসল সমস্যা ছিল গাড়ির ইঞ্জিনই E20 জ্বালানির উপযোগী নয়। তিনি ২০২৪ সালের ৩ জুন গাড়ি বদলে দেওয়ার আবেদন করলেও সংস্থা বা ডিলার কেউই সেই অনুরোধ মানেনি।
সমস্ত নথি ও প্রমাণ পর্যালোচনা করে কমিশন জানায়, অভিযোগকারী আংশিকভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন যে পরিষেবায় ত্রুটি এবং অন্যায্য বাণিজ্যিক আচরণ হয়েছে। তাই কমিশন বর্তমান গাড়িটি ফিরিয়ে নিয়ে একই মডেলের E20-সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রযুক্তিযুক্ত নতুন গাড়ি দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
এছাড়া মানসিক যন্ত্রণা ভোগের জন্য ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং মামলার খরচ বাবদ ১০ হাজার টাকা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থও ৪৫ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ প্রদান না করলে ওই টাকার উপর বার্ষিক ৭ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে বলেও কমিশন জানিয়েছে।



