খবরাখবর

অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন না আসারাম, ২৪ ঘণ্টা প্রশিক্ষিত পরিচর্যাকারীর অনুমতি

AIIMS-এর রিপোর্টের ভিত্তিতে চিকিৎসা সহায়তা মিললেও জামিনে সায় দিল না সুপ্রিম কোর্ট

স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারামকে অন্তর্বর্তী জামিন দিতে অস্বীকার করল সুপ্রিম কোর্ট। গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কথা জানিয়ে জামিনের আবেদন করা হলেও আদালত জানায়, এই মুহূর্তে যে চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য আদালতের সামনে রয়েছে, তা অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। তবে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস বা AIIMS-এর দেওয়া চিকিৎসা রিপোর্ট বিবেচনা করে আদালত আসারামকে তাঁর পছন্দের প্রশিক্ষিত পরিচর্যাকারী বা কেয়ারটেকার ২৪ ঘণ্টার জন্য রাখার অনুমতি দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট এই মামলার শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টে। বিচারপতি এম.এম. সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি.বি. ভারালের বেঞ্চ আসারামের অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন বিবেচনা করে এই নির্দেশ দেয়।

মামলার পটভূমি

২০১৩ সালের একটি নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন আসারাম। সেই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া দণ্ড বহাল রেখেছিল রাজস্থান হাইকোর্ট। হাইকোর্টের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন তিনি।

এর পাশাপাশি, নিজের শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদনও করেন আসারাম। তাঁর দাবি ছিল, তিনি একাধিক গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন এবং তাঁর দ্রুত ও বিশেষ চিকিৎসা প্রয়োজন। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট আগে AIIMS-কে তাঁর শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত পরীক্ষা করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী AIIMS তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্টই বৃহস্পতিবারের শুনানিতে বিশেষভাবে বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ।

AIIMS-এর রিপোর্টে কী বলা হয়েছে?

আদালতের সামনে দেওয়া AIIMS-এর চিকিৎসা রিপোর্টে বলা হয়, এই মুহূর্তে আসারামকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন নেই। তবে তাঁর দৈনন্দিন প্রয়োজন এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত সহায়তার জন্য একজন প্রশিক্ষিত পরিচর্যাকারীর নিয়মিত সাহায্য প্রয়োজন হতে পারে।

রিপোর্টটি বিবেচনা করার পর আদালত তাঁকে জামিনে মুক্তি না দিলেও প্রশিক্ষিত কেয়ারটেকার রাখার অনুমতি দেয়। বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানায়, আসারাম নিজের পছন্দ অনুযায়ী একজন প্রশিক্ষিত পরিচর্যাকারীর সাহায্য নিতে পারবেন এবং সেই পরিচর্যাকারী ২৪ ঘণ্টা তাঁর সঙ্গে থাকতে পারবেন।

আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, “The petitioner will have liberty to have assistance of a trained care taker of his choice, on a round-the-clock basis.”

অর্থাৎ, চিকিৎসার প্রয়োজন মেটাতে তাঁকে হেফাজতে থাকা অবস্থাতেই তাঁর পছন্দের প্রশিক্ষিত পরিচর্যাকারীর সাহায্য নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

জামিন নয়, চিকিৎসা সহায়তার অনুমতি

শুনানির সময় কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, বর্তমান মামলা সুপ্রিম কোর্টে চলার মধ্যেই আসারাম রাজস্থান হাইকোর্ট থেকে প্যারোল পেয়েছিলেন। এই বিষয়টি নিয়েও আদালতের সামনে বক্তব্য রাখা হয়।

সব দিক বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট আপাতত তাঁর সাজা স্থগিত করেনি এবং অন্তর্বর্তী জামিনও দেয়নি। তবে AIIMS-এর চিকিৎসা মতামতের ভিত্তিতে প্রশিক্ষিত পরিচর্যাকারী রাখার অনুমতি দিয়েছে।

আদালত আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যদি আসারামের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে, তাহলে তিনি আবার আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন। সেই পরিস্থিতিতে নতুন করে বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

ফলে আপাতত হেফাজতেই থাকতে হবে আসারামকে। তবে তাঁর স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে ২৪ ঘণ্টা প্রশিক্ষিত পরিচর্যাকারীর সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকবে। অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদনটি এখনও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

কেস টাইটেল

Asha Ram @ Ashumal v. State of Rajasthan

কেস নম্বর: SLP (Crl.) No. 11761 of 2026
বিচারপতি: Justice M.M. Sundresh and Justice P.B. Varale
রায়ের তারিখ: ৬ আগস্ট, ২০২৬

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button