NEET UG 2026-এ বড় ধাক্কা, পরীক্ষার পর General বা OBC-NCL থেকে EWS বদলের অনুমতি দিল না কলকাতা হাইকোর্ট
মেধাতালিকা প্রকাশের পর বিভাগ বদল করলে নির্ধারিত নিয়মে থাকা প্রার্থীদের সমান সুযোগ ও স্বচ্ছতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে

NEET UG 2026 পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট। পরীক্ষার পর এবং সর্বভারতীয় মেধাতালিকা প্রকাশের পরে General অথবা OBC-NCL বিভাগ থেকে Economically Weaker Section (EWS) বিভাগে পরিবর্তনের অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে আদালত। বিচারপতি অমৃতা সিনহা আটজন পরীক্ষার্থীর দায়ের করা রিট পিটিশন খারিজ করে দিয়েছেন।
এই প্রার্থীরা পশ্চিমবঙ্গের মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সেলিংয়ে EWS বিভাগের অধীনে অংশ নেওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন। তাঁদের কাছে থাকা EWS সার্টিফিকেটগুলি ১ এপ্রিল ২০২৬-এর পরে ইস্যু করা হয়েছিল।
মামলার পটভূমি
আবেদনকারীরা NEET UG 2026 পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন পরীক্ষার আবেদনপত্রে নিজেকে OBC-NCL (Central List) হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। বাকি সাতজন আবেদন করার সময় নিজেদের General Category হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। NEET-এর আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় তাঁদের কারও কাছেই EWS সার্টিফিকেট ছিল না।
NEET UG 2026-এর আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা ছিল ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত।
পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গের Directorate of Medical Education একটি কাউন্সেলিং সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে বলা হয়, রাজ্য কোটার আসনে EWS সংরক্ষণের সুবিধা পেতে হলে প্রার্থীদের এমন EWS সার্টিফিকেট থাকতে হবে, যা ১ এপ্রিল ২০২৬ বা তার পরে ইস্যু করা হয়েছে।
আবেদনকারীদের বক্তব্য ছিল, NEET-এর আবেদন করার সময় তাঁরা এই ধরনের সার্টিফিকেট পাওয়ার সুযোগ পাননি। তাই কাউন্সেলিংয়ের সময় তাঁদের EWS হিসেবে নিজেদের ঘোষণা করার অনুমতি দেওয়া উচিত। ১৩ থেকে ১৬ আগস্ট নির্ধারিত কাউন্সেলিং প্রক্রিয়ায় EWS বিভাগে রেজিস্ট্রেশনের অনুমতিই তাঁরা আদালতের কাছে চেয়েছিলেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
বিচারপতি অমৃতা সিনহা আবেদনকারীদের যুক্তি গ্রহণ করেননি। আদালত মনে করে, মেধাতালিকা তৈরি হয়ে যাওয়ার পরে কোনও প্রার্থীর বিভাগ পরিবর্তনের অনুমতি দিলে তার প্রভাব অন্য প্রার্থীদের উপরও পড়তে পারে।
আদালত উল্লেখ করে, NEET সারা দেশে অনুষ্ঠিত হয় এবং এর সর্বভারতীয় র্যাঙ্ক কেন্দ্রীয় ও রাজ্য—উভয় কোটাতেই ভর্তির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, ন্যায়সংগত আচরণ এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে নির্ধারিত নিয়ম প্রতিটি পর্যায়েই মেনে চলা প্রয়োজন।
আদালতের বক্তব্য, যে প্রার্থী EWS সংরক্ষণের সুবিধা দাবি করবেন, আবেদনপত্র জমা দেওয়ার প্রাসঙ্গিক পর্যায়েই তাঁর কাছে বৈধ EWS সার্টিফিকেট থাকা উচিত ছিল। পরবর্তীতে EWS সার্টিফিকেট সংগ্রহ করলেই NEET আবেদনপত্রে আগে ঘোষিত বিভাগ পরিবর্তন হয়ে যায় না।
আদালত আরও উল্লেখ করেছে, EWS মর্যাদা কোনও নির্দিষ্ট আর্থিক বছরের আয় ও সম্পত্তির পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত। ফলে এক আর্থিক বছর থেকে অন্য আর্থিক বছরে কোনও ব্যক্তির EWS মর্যাদা পরিবর্তিত হতে পারে। এই কারণে EWS বিভাগ এমন কিছু বিভাগের থেকে আলাদা, যেগুলির মর্যাদা সাধারণত আর্থিক বছরের সঙ্গে পরিবর্তিত হয় না।
‘খেলার নিয়ম বদলানো যাবে না’
বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে আদালত জানায়, মেধাতালিকা প্রকাশের পরে বিভাগ পরিবর্তনের অনুমতি দেওয়া হলে সেই সমস্ত প্রার্থীর উপর প্রভাব পড়তে পারে, যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে EWS বিভাগ ঘোষণা করেছিলেন।
আদালত মন্তব্য করে, “The game began with the publication of the notice of the admission process followed by filing of the application form.” অর্থাৎ, ভর্তি প্রক্রিয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় থেকেই এই ‘খেলা’ শুরু হয়েছিল। মেধাতালিকা প্রকাশের পরে বিভাগ পরিবর্তনের অনুমতি দেওয়া হলে তা কার্যত ‘খেলার নিয়ম পরিবর্তন’ করার সমান হবে।
এই সিদ্ধান্তে আদালত সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী কয়েকটি রায়ের উপরও নির্ভর করেছে। এর মধ্যে রয়েছে Divya v. Union of India এবং Poonam Dwivedi v. State of U.P. মামলার রায়, যেখানে EWS সার্টিফিকেট এবং নির্ধারিত কাট-অফ তারিখ সংক্রান্ত বিষয় বিবেচনা করা হয়েছিল।
আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
বিচারপতি অমৃতা সিনহা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে আবেদনকারীদের কোনও প্রতিকার দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে তাঁদের রিট পিটিশন খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। মামলায় খরচ সংক্রান্ত কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
মামলার বিবরণ: Hasibur Rahaman Mondal & Ors. v. State of West Bengal State & Ors.
মামলা নম্বর: WPA No. 21501 of 2026
বিচারপতি: বিচারপতি অমৃতা সিনহা
রায়ের তারিখ: ১৪ আগস্ট ২০২৬।


