সুপ্রিমকোর্ট

ঋণখেলাপির সম্পত্তি নিলামে বিক্রির বৈধতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট

নোটিসের ত্রুটি সবসময় নিলাম বাতিল করে না, মৃত ঋণগ্রহীতার উত্তরাধিকারীর জন্য ব্যক্তিগত বাড়ির সুরক্ষাও প্রযোজ্য নয়

ঋণ আদায়ের জন্য ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনও সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নোটিসের ত্রুটি থাকলেই সেই নিলাম বা সম্পূর্ণ কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না। একইসঙ্গে, মৃত ঋণগ্রহীতার উত্তরাধিকারীরা শুধুমাত্র ওই বাড়িতে বসবাস করেন বলে Code of Civil Procedure-এর Section 60(1)(ccc)-এর অধীনে ব্যক্তিগতভাবে বসতবাড়ি সংক্রান্ত ছাড় দাবি করতে পারেন না। এমনই গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

বিচারপতি পি. এস. নরসিমহা এবং বিচারপতি অলোক আরাধে-র বেঞ্চ ১৪ আগস্ট ২০২৬ এই রায় দেয়। আদালত মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ১৫ মে ২০০৯-এর রায় খারিজ করে দেয়। Civil Appeal No. 182 of 2016 এবং Civil Appeal No. 190 of 2016 মঞ্জুর করা হয় এবং Civil Appeal No. 191 of 2016 খারিজ করা হয়। কোনও খরচ ধার্য করা হয়নি।

মামলার সূত্রপাত

মামলাটি দিল্লির পঞ্চশীল পার্কের একটি সম্পত্তি নিলামে বিক্রি হওয়া নিয়ে। M/s Sterling Malt & Foods Pvt. Ltd. নামে একটি সংস্থা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিল। সংস্থার কারখানার জমি, ভবন, প্ল্যান্ট ও যন্ত্রপাতির উপর ব্যাংকের চার্জ ছিল এবং সংস্থার দুই পরিচালক ব্যক্তিগত গ্যারান্টি দিয়েছিলেন। তবে দিল্লির S-246, Panchsheel Park-এর বাড়িটি সংস্থার ঋণের জন্য বন্ধক রাখা হয়নি।

১৯৮৩ সালে কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ঋণ পরিশোধে অনিয়ম শুরু হয়। ব্যাংক ঋণ আদায়ের জন্য মামলা করে। পরবর্তীতে পক্ষগুলির মধ্যে সমঝোতা হয় এবং ১৫ অক্টোবর ১৯৯১ একটি compromise decree জারি হয়। সমঝোতা অনুযায়ী L.K. Trust ও তার trustees-কে ১.৮ কোটি টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করার কথা ছিল।

ঋণগ্রহীতা ১৭ নভেম্বর ১৯৯৪ মারা যান। ট্রাস্ট ও তার trustees প্রায় ৮২ লক্ষ টাকা পরিশোধ করার পর বাকি অর্থ দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এরপর ব্যাংক ঋণ আদায়ের জন্য কার্যক্রম শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত দিল্লির সম্পত্তি নিলামে তোলার উদ্যোগ নেয়।

নিলাম ও আদালতের লড়াই

২০ সেপ্টেম্বর ২০০৪ Recovery Officer দিল্লির সম্পত্তি নিলামে তোলার নির্দেশ দেন। ঋণগ্রহীতার স্ত্রী মোহিনী হারদয়াল সিং ওই নির্দেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেন। পরে ২৭ নভেম্বর ২০০৬ নিলাম অনুষ্ঠিত হয় এবং আবেদনকারী শীলা গেহলটের দেওয়া দর গ্রহণ করা হয়। ১ মার্চ ২০০৭ নিলামের sale certificate-ও জারি হয়।

পরবর্তীতে Debt Recovery Tribunal এবং Debt Recovery Appellate Tribunal-এ একাধিক পর্যায়ের মামলা হয়। শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ১৫ মে ২০০৯ DRAT-এর রায় বাতিল করে বিষয়টি নতুন করে তদন্তের জন্য DRT-তে পাঠায়। হাইকোর্ট মনে করেছিল, execution proceeding-এর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নোটিস দেওয়া হয়নি এবং সম্পত্তিটি Section 60(1)(ccc)-এর অধীনে সুরক্ষিত কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

নোটিস না দেওয়া কি নিলাম বাতিল করে?

সুপ্রিম কোর্ট প্রথমে Order XXI Rule 22 CPC নিয়ে আলোচনা করে। আদালত স্বীকার করে যে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই বিধানের অধীনে নোটিস দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু মামলার ক্ষেত্রে Morena Court প্রায় দুই বছর তিন মাস ধরে উত্তরাধিকারীদের নোটিস দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। একাধিক তারিখে নোটিস জারি হলেও তা কার্যকর হয়নি।

আদালত আরও জানায়, পরে execution proceeding DRT-তে স্থানান্তরিত হওয়ার পর Recovery of Debts Due to Banks and Financial Institutions Act, 1993 এবং Income-tax Act-এর Second Schedule-এর বিধান প্রযোজ্য হয়। ফলে Order XXI Rule 22-এর নোটিসের প্রশ্নটি নিলামের বৈধতাকে প্রভাবিত করে না।

যদিও Second Schedule-এর Rule 2 অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নোটিস দেওয়া হয়নি, উত্তরাধিকারীরা execution proceeding সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং নিলাম ঠেকাতে তাঁরা আদালতে আবেদনও করেছিলেন। তাছাড়া নিলামের পর Rule 61 অনুযায়ী নিলাম বাতিলের নির্দিষ্ট প্রতিকারও তাঁরা গ্রহণ করেননি। তাই নোটিসের অনুপস্থিতির কারণে তাঁদের কোনও substantial injury হয়েছে বলে আদালত মনে করেনি।

উত্তরাধিকারীদের বসতবাড়ির সুরক্ষা নেই

Section 60(1)(ccc) অনুযায়ী ঋণগ্রহীতার নিজের দখলে থাকা একটি প্রধান আবাসিক বাড়ি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে attachment ও sale থেকে সুরক্ষিত হতে পারে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে, এই সুরক্ষা ব্যক্তিগতভাবে judgment-debtor-এর জন্য। মৃত ঋণগ্রহীতার উত্তরাধিকারী শুধুমাত্র ওই বাড়িতে বসবাস করেন বলে একই ছাড় দাবি করতে পারেন না।

আদালত আরও উল্লেখ করে, এই ছাড়ের দাবি উত্তরাধিকারীরা আগের পর্যায়ের কার্যক্রমে যথাযথভাবে তোলেননি। প্রথমবার writ petition পর্যায়ে এমন একটি প্রশ্ন তুলে পরে factual inquiry চাওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়।

সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

সব দিক বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ১৫ মে ২০০৯-এর রায় quash and set aside করেছে। শীলা গেহলট ও পাঞ্জাব অ্যান্ড সিন্ধ ব্যাংকের আপিল মঞ্জুর এবং জগমিন্দর সিংয়ের আপিল খারিজ করা হয়েছে। মামলায় কোনও খরচ ধার্য করা হয়নি।

মামলার বিবরণ:
Case Titles: Sheela Gehlot v. Mohini Hardayal Singh & Ors.; Punjab & Sind Bank v. Mohini Hardayal Singh & Ors.; Jagminder Singh v. Punjab & Sind Bank & Ors.
Case Numbers: Civil Appeal Nos. 182, 190 and 191 of 2016
বিচারপতি: Justice P. S. Narasimha ও Justice Alok Aradhe
রায়ের তারিখ: ১৪ আগস্ট ২০২৬
Neutral Citation: 2026 INSC 863

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button