অভিযুক্তের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশে পুলিশের ক্ষমতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট
হাতকড়া পরানো ছবি প্রকাশে অভিযুক্তের মর্যাদা ও ন্যায্য বিচারের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন

অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ছবি, ভিডিও এবং পরিচয় পুলিশ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে সুপ্রিম কোর্টে। পুলিশের পক্ষ থেকে তৈরি করা এমন অনলাইন কনটেন্টে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মুখ বা পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার পাশাপাশি তাঁদের হাতকড়া পরানো, দড়ি দিয়ে বাঁধা, মারধর করা, হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখা বা অন্য কোনও অপমানজনক অবস্থায় দেখানো হলে তাঁদের মর্যাদা এবং ন্যায্য বিচারের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এই অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্র, রাজ্য, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং দুই প্রধান সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের কাছে জবাব চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
১৮ আগস্ট ২০২৬ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনা-র বেঞ্চ এই মামলাটি শুনেছে। আবেদনটি করেছেন হেমেন্দ্র প্যাটেল।
আবেদনে মূলত পুলিশের বিভিন্ন সংগঠন বা কর্তৃপক্ষের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে অভিযুক্তদের ছবি ও ভিডিও প্রকাশের বিষয়ে সুরক্ষা ব্যবস্থা চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, তদন্ত বা গ্রেফতারের সময় অভিযুক্তদের যে অবস্থায় দেখানো হয়, সেই ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করলে তা জনসমক্ষে তাঁদের সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে বলে আবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
আবেদনকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশের তৈরি কনটেন্টে অনেক সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মুখ এবং পরিচয় প্রকাশ করা হয়। আবার কোথাও তাঁদের হাতকড়া পরানো, দড়ি দিয়ে বাঁধা, মারধর করা, হাঁটু গেড়ে বসানো কিংবা অন্য কোনও অপমানজনক অবস্থায় দেখানো হয়। এই ধরনের ছবি বা ভিডিও প্রকাশের ফলে অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে বিচার শেষ হওয়ার আগেই সমাজের চোখে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যেতে পারেন।
এই বিষয়টি ন্যায্য বিচারের অধিকার এবং ব্যক্তির মর্যাদার অধিকার-এর সঙ্গে যুক্ত বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
আবেদনকারীর হয়ে শীর্ষ আদালতে সওয়াল করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট গোপাল শঙ্করনারায়ণন। তিনি জানান, এবার মামলায় Meta Platforms Inc. এবং X Corp.-কেও পক্ষ করা হয়েছে। কারণ, এই দুই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের বর্তমান নীতিতে পুলিশের তৈরি এই ধরনের কনটেন্টের বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই বলে আবেদনকারীর দাবি।
শুনানিতে তিনি বলেন, পুলিশের তৈরি এই ধরনের ছবি বা ভিডিও নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির নীতিমালায় নির্দিষ্ট ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, “This time we have made the social media platforms as party… neither of their policies have covered this.”
আবেদনে পুলিশের জন্য উপযুক্ত নির্দেশিকা তৈরির দাবিও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরনের কনটেন্ট প্রকাশিত হলে তা দ্রুত সরিয়ে ফেলার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা তৈরির আবেদন করা হয়েছে।
শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টও বিষয়টির গুরুত্ব স্বীকার করে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন, “A regulatory regime has to be there.” অর্থাৎ এই ধরনের কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামো থাকা প্রয়োজন।
আবেদনকারী পক্ষ আরও জানায়, দেশের বিভিন্ন হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই এই ধরনের বিষয়ে কিছু নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন আদালতের পৃথক নির্দেশের পরিবর্তে গোটা দেশের জন্য একটি অভিন্ন এবং কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে দাবি করা হয়।
সমস্ত বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকার, বিভিন্ন রাজ্য, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং Meta Platforms Inc. ও X Corp.-কে নোটিস জারি করেছে। মামলায় উত্থাপিত বিষয়গুলির উপর তাঁদের জবাব চাওয়া হয়েছে।
এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে পুলিশ কর্তৃপক্ষের তৈরি সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট প্রকাশের সীমা, অভিযুক্তের মর্যাদা রক্ষা এবং ন্যায্য বিচারের অধিকার নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে কোনও অভিন্ন নির্দেশিকা প্রয়োজন কি না, সেই প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
কেস টাইটেল: Hemendra Patel v. Union of India and Ors.
কেস নম্বর: W.P.(C) No. 311/2026; Diary No. 32704/2026
বিচারপতি: Chief Justice Surya Kant, Justice Joymalya Bagchi and Justice V. Mohana
রায়ের তারিখ: ১৮ আগস্ট ২০২৬


