সুপ্রিমকোর্ট

দূরশিক্ষায় ডিগ্রি পেলেও পদোন্নতি আটকানো যাবে না, গুরুত্বপূর্ণ সুপ্রিম কোর্টের রায়

সরকারি চাকরিতে নিয়মিত কোর্সের শর্ত না থাকলে দূরশিক্ষার ডিগ্রিও বৈধ

দূরশিক্ষার মাধ্যমে ডিগ্রি অর্জন করেছেন বলে কোনও সরকারি কর্মচারীকে শুধু সেই কারণে পদোন্নতির বিবেচনা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। এমনই গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট চাকরির নিয়মে যদি ডিগ্রি নিয়মিত বা শারীরিক উপস্থিতির কোর্স থেকেই অর্জন করতে হবে—এমন নির্দিষ্ট শর্ত না থাকে, তাহলে দূরশিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত ডিগ্রিকে অগ্রাহ্য করা যাবে না।

২২ আগস্ট, ২০২৬ বিচারপতি মনোজ মিশ্র এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঞার বেঞ্চ এই রায় দেয়। R.J. Gajendra Kumar v. Government of Tamil Nadu & Anr. মামলায় শীর্ষ আদালত আরও জানায়, কোনও কর্মচারীর আগের পদোন্নতিকে যখন দীর্ঘ সময় ধরে কেউ চ্যালেঞ্জ করেনি, তখন পরবর্তীতে সেই পদে তাঁর যোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলা যায় না।

মামলার সূত্রপাত তামিলনাড়ু পর্যটন দফতরের কর্মী আর. জে. গজেন্দ্র কুমারকে ঘিরে। ১৯৮৩ সালে বাবার মৃত্যুর পর, বাবার কর্মস্থল তামিলনাড়ু পর্যটন দফতরেই সহানুভূতিশীল নিয়োগের মাধ্যমে চাকরিতে যোগ দেন তিনি।

পরবর্তীকালে মাদুরাই কামরাজ ওপেন ইউনিভার্সিটির মাধ্যমে একটি ফাউন্ডেশন কোর্স সম্পূর্ণ করেন কুমার। এরপর ১৯৮৭ সালে দূরশিক্ষা ব্যবস্থায় বি.কম ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি এম.কম এবং পর্যটন বিষয়ে একটি পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমাও লাভ করেন।

২০১১ সালে তাঁকে অস্থায়ীভাবে ট্যুরিস্ট অফিসার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। পরে ওই পদে তাঁর চাকরি ৫ আগস্ট, ২০১১ থেকে নিয়মিত করা হয়। দীর্ঘদিন ট্যুরিস্ট অফিসার হিসেবে কাজ করার পর কুমার অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর অফ ট্যুরিজম পদে পদোন্নতি চেয়ে আবেদন করেন।

কিন্তু ২০২০ সালে তাঁর সেই আবেদন সরকার প্রত্যাখ্যান করে। সরকারের যুক্তি ছিল, কুমারের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারিত নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এরপর বিষয়টি আদালতে গড়ায়। মাদ্রাজ হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ প্রথমে কুমারের পক্ষে রায় দেয়। কিন্তু পরে ডিভিশন বেঞ্চ সেই সিদ্ধান্ত উল্টে দেয়। রিভিউ আবেদনও খারিজ হয়ে যায়। এরপর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন কুমার।

শীর্ষ আদালত মামলাটি বিশ্লেষণ করে জানায়, হাইকোর্ট মূল প্রশ্ন থেকে সরে গিয়েছিল। আসল প্রশ্ন ছিল কুমার অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর অফ ট্যুরিজম পদে পদোন্নতির জন্য যোগ্য কি না। তিনি ট্যুরিস্ট অফিসার পদে আদৌ যোগ্য ছিলেন কি না, সেটি নতুন করে বিচার করার বিষয় নয়।

কারণ, ট্যুরিস্ট অফিসার হিসেবে তাঁর পদোন্নতিকে কেউ চ্যালেঞ্জ করেননি এবং তিনি ১৫ বছরেরও বেশি সময় ওই পদে কাজ করেছেন।

সুপ্রিম কোর্ট তামিলনাড়ু সরকারের পদোন্নতি সংক্রান্ত নিয়মও পরীক্ষা করে। আদালত দেখতে পায়, অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর অফ ট্যুরিজম পদে পদোন্নতির জন্য স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি, এক্সিকিউটিভ অফিসারদের জন্য নির্ধারিত অ্যাকাউন্টস টেস্টে উত্তীর্ণ হওয়া এবং তামিলনাড়ুর বাইরে ট্যুরিস্ট অফিসার হিসেবে এক বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।

তবে নিয়মের কোথাও বলা হয়নি যে ডিগ্রি অবশ্যই নিয়মিত বা শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে অর্জন করতে হবে। আদালত আরও জানায়, তামিলনাড়ু গভর্নমেন্ট সার্ভেন্টস (কন্ডিশনস অফ সার্ভিস) অ্যাক্ট, ২০১৬-এর ২৫ নম্বর ধারার ব্যাখ্যাতেও এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, দূরশিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত ডিগ্রিকে শুধুমাত্র শিক্ষার পদ্ধতির কারণে অযোগ্য বলে গণ্য করা যাবে না, যদি সংশ্লিষ্ট নিয়মে এমন নিষেধাজ্ঞা স্পষ্টভাবে না থাকে।

সুপ্রিম কোর্ট মাদ্রাজ হাইকোর্টের P. Thavam মামলার রায়কেও বিবেচনায় নেয়। সেখানে ফাউন্ডেশন কোর্স সংক্রান্ত অযোগ্যতার প্রভাব ২০ নভেম্বর, ২০১৭ থেকে ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে কার্যকর বলে ধরা হয়েছিল।

সব দিক বিবেচনা করে শীর্ষ আদালত জানায়, কুমার অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর অফ ট্যুরিজম পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হওয়ার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ করেন।

ফলে ৬ জুন, ২০২৩-এর মাদ্রাজ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায় এবং ১৮ নভেম্বর, ২০২৪-এর রিভিউ বেঞ্চের নির্দেশ খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। পুনরায় ১৬ আগস্ট, ২০২১-এর সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ কার্যকর করা হয়।

আদালত তামিলনাড়ু সরকারকে আইন অনুযায়ী কুমারের পদোন্নতির বিষয়টি বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছে। মামলায় কোনও পক্ষের উপর খরচ চাপানো হয়নি।

কেস টাইটেল

R.J. Gajendra Kumar v. Government of Tamil Nadu & Anr.

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button