সুপ্রিমকোর্ট

মাদ্রাসায় নিয়োগ দাবি করে ৩৫০-র বেশি শিক্ষক-কর্মীর আবেদন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

Najma Khatun and Ors. v. The State of West Bengal and Ors. | W.P.(C) No. 566/2024

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মাদ্রাসায় নিয়োগ পাওয়ার দাবি করা ৩৫০-রও বেশি শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, আবেদনকারীদের দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত ভিত্তি নেই। তাই তাঁদের করা সমস্ত রিট পিটিশন খারিজ করা হচ্ছে।

Najma Khatun and Ors. v. The State of West Bengal and Ors. | W.P.(C) No. 566/2024 মামলায় বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি এ.জি. মাসিহের বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।

আবেদনকারীদের দাবি ছিল, West Bengal Madrasah Service Commission Act, 2008-কে কলকাতা হাইকোর্ট প্রথমে একক বেঞ্চ এবং পরে ডিভিশন বেঞ্চ অসাংবিধানিক ঘোষণা করার পর তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মাদ্রাসায় নিয়ম মেনে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী হিসেবে নিয়োগ পান। সেই কারণে তাঁরা রাজ্য সরকারের Grants-in-Aid Scheme-এর আওতায় বেতন পাওয়ার অধিকারী।

তবে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ৩৫০-র বেশি আবেদনকারীর মধ্যে ১৩ জনের নথি প্রথমে খতিয়ে দেখা হয়। আদালত ধরে নিয়েছিল, যদি এই ১৩ জনের মধ্যে অন্তত একজনও তাঁর দাবি সন্তোষজনকভাবে প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে অন্যদের মামলাও বিবেচনা করা হবে। কিন্তু বিচারপতিদের মতে, ওই ১৩ জনের কেউই আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারেননি। ফলে সব আবেদনই খারিজ করা হয়েছে।

এই মামলার পটভূমিতে রয়েছে SK. Mohd Rafique v. Managing Committee, Contai Rahamania High Madrasah (2020) মামলার রায়। ওই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট West Bengal Madrasah Service Commission Act, 2008-এর সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রাখে। এরপর নিয়োগ সংক্রান্ত দাবিদাওয়া নিয়ে আদালতে অবমাননার আবেদন হয়। ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট একটি কমিটি গঠন করে, যাতে হাইকোর্টের রায়ের পরে নিয়োগ পাওয়ার দাবি করা ব্যক্তিদের পৃথকভাবে যাচাই করা হয়। সেই কমিটি আবেদনকারীদের দাবি গ্রহণ করেনি। পরে সেই প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেই সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে বর্তমান রিট আবেদন করা হয়।

শুনানির সময় বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত আবেদনকারীদের আইনজীবীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মামলা চিহ্নিত করতে বলেন এবং দুটি মূল প্রশ্নের উত্তর চান। প্রথমত, নিয়োগের সময় সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলির পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের বৈধ স্বীকৃতি ছিল কি না। দ্বিতীয়ত, যেখানে নিয়োগের দাবি করা হয়েছে, সেই মাদ্রাসার পরিচালন সমিতি সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী বৈধভাবে গঠিত ছিল কি না এবং শিক্ষা পর্ষদের অনুমোদন ছিল কি না।

এই বিষয়গুলি বিবেচনার পর সুপ্রিম কোর্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে আবেদনকারীদের দাবিতে কোনও আইনগত ভিত্তি নেই। তাই ৩৫০-রও বেশি শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর করা সমস্ত রিট পিটিশন খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button