নতুন আইন কলেজ খোলায় আর বাধা নেই: তিন বছরের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করল বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া

দেশের আইনি শিক্ষাক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে নতুন আইন মহাবিদ্যালয় (Law College) স্থাপনের ওপর আরোপিত তিন বছরের স্থগিতাদেশ বা মরাটোরিয়াম তুলে নিল বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (BCI)। সোমবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট পিটিশনের শুনানি চলাকালীন বিসিআই-এর পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: ‘ভোকেশনাল এডুকেশন ফাউন্ডেশন সোসাইটি’ নামক একটি সংস্থা সুপ্রিম কোর্টে বিসিআই-এর ২০২৫ সালের একটি বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, আগামী তিন বছর দেশে কোনো নতুন আইন কলেজ স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হবে না। আবেদনকারী সংস্থার দাবি ছিল, বিসিআই-এর এই ঢালাও নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত অযৌক্তিক এবং এর ফলে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। বিসিআই-এর আইনজীবী রাধিকা গৌতম আদালতকে জানান যে, কাউন্সিল ইতিপূর্বেই তাদের তিন বছরের স্থগিতাদেশের সিদ্ধান্তটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ঘোষণার পর আদালত জানায়, যেহেতু মূল নিষেধাজ্ঞাই তুলে নেওয়া হয়েছে, তাই এই মামলার আর কোনো কার্যকারিতা নেই। ফলে পিটিশনটি নিষ্পত্তি করা হয়।
আবেদনকারীর যুক্তি: মামলাকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, তারা আইন কলেজ খোলার জন্য প্রয়োজনীয় জমি, পরিকাঠামো এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনাপত্তি শংসাপত্র (NOC) সংগ্রহ করে রেখেছে। তা সত্ত্বেও বিসিআই-এর এই মরাটোরিয়াম এবং অনলাইন পোর্টাল বন্ধ রাখার কারণে তারা আবেদন জমা দিতে পারছিল না। তাদের মতে, বিসিআই-এর এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় সংবিধানের ১৪, ১৯(১)(গ) এবং ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত অধিকারের পরিপন্থী।
বর্তমান পরিস্থিতি: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এখন থেকে নতুন আবেদনকারীরা ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য আইন কলেজ খোলার আবেদন জমা দিতে পারবেন। লিগ্যাল এডুকেশন রুলস বা আইনি শিক্ষার প্রচলিত নিয়ম মেনেই এই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে।
উপসংহার: বিসিআই-এর এই পিছু হঠার ফলে আইনি শিক্ষা প্রসারের পথ প্রশস্ত হলো। এর ফলে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল, তারা এখন আইনত আবেদন করার সুযোগ পাবে।



