খবরাখবর

১৪ বছরের কম বয়সিদের শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে নির্দেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা

Ashwini Kumar Upadhyay v. Union of India & Ors.

ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল) দায়ের করা হয়েছে, যেখানে কেন্দ্র সরকার এবং সমস্ত রাজ্যকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে যাতে ১৪ বছরের কম বয়সি শিশুদের শিক্ষা বা ধর্মীয় শিক্ষা প্রদানকারী সব প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন, স্বীকৃতি, তদারকি এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়।

সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে আইনজীবী অশ্বিনী কুমার উপাধ্যায় এই আবেদন দায়ের করেছেন। আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে যে, সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ শুধুমাত্র সংখ্যালঘু সম্প্রদায় পরিচালিত ধর্মনিরপেক্ষ বা পেশাগত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দেয়। ধর্মীয় শিক্ষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রে এই অনুচ্ছেদের সুরক্ষা প্রযোজ্য নয়।

আবেদনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ২১এ অনুচ্ছেদ, পাশাপাশি ১৪, ১৫, ১৬, ৩৯(এফ), ৪৫ এবং ৫১এ(কে) অনুচ্ছেদের আলোকে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো, ১৪ বছরের কম বয়সি শিশুদের শিক্ষা প্রদানকারী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে আইনসম্মত নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত করা। সেই কারণে সব প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, স্বীকৃতি এবং নিয়মিত পরিদর্শন নিশ্চিত করা জরুরি।

আবেদনকারীর দাবি, চলতি বছরের শুরুতে উত্তরপ্রদেশের একাধিক সীমান্ত জেলায় সফরের সময় তিনি বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেখতে পান, যেগুলি কোনও সরকারি নিবন্ধন বা স্বীকৃতি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। একই ধরনের প্রতিষ্ঠান দেশের অন্যান্য সীমান্তবর্তী এলাকাতেও গড়ে উঠেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর মতে, যথাযথ নিয়ন্ত্রণের অভাবে শিশুদের মানসম্মত শিক্ষার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।

পিআইএলে আরও বলা হয়েছে, ধর্মীয় শিক্ষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলিকে সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদের আওতায় বিবেচনা করা উচিত, কারণ ওই অনুচ্ছেদ ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে প্রযোজ্য। অন্যদিকে ৩০ অনুচ্ছেদ মূলত সংখ্যালঘুদের শিক্ষা-সংক্রান্ত অধিকার রক্ষার জন্য প্রণীত।

আবেদনকারী আরও দাবি করেছেন, সংবিধানে “সংখ্যালঘু” শব্দটির কোনও নির্দিষ্ট আইনি সংজ্ঞা নেই। তাই কেন্দ্র সরকারকে এই শব্দের স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় চিহ্নিত করার জন্য নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ মানদণ্ড প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হোক। বিকল্প হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট নিজেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা জারি করুক বলেও আবেদন জানানো হয়েছে।

মামলায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলিকে ১৪ বছরের কম বয়সি শিশুদের শিক্ষা বা ধর্মীয় শিক্ষা প্রদানকারী সব প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি সংবিধানের ২৬ ও ৩০ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা সম্পর্কেও আদালতের স্পষ্ট মতামত চাওয়া হয়েছে। মামলাটির শুনানি সুপ্রিম কোর্টে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button