লখনউ আদালত চত্বরে অবৈধ চেম্বার ভাঙার নির্দেশ বহাল রাখল হাইকোর্ট
শেষবারের মতো নোটিস, বৈধ কাগজ দেখাতে না পারলে হবে উচ্ছেদ অভিযান

লখনউ জেলা ও দায়রা আদালতের (ডিস্ট্রিক্ট অ্যান্ড সেশনস কোর্ট) সংলগ্ন এলাকায় সরকারি জমির ওপর নির্মিত প্রায় ৭২টি অবৈধ আইনজীবীদের চেম্বার ও দোকান অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত দখলদারদের শেষবারের মতো জায়গা খালি করা বা বৈধ মালিকানার প্রমাণ দেওয়ার সুযোগ দিলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, উচ্ছেদ অভিযানে বাধা সৃষ্টি করা হলে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করার চেষ্টা হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার প্রেক্ষাপট
চকবস্ত ক্রসিং এলাকায় জেলা ও দায়রা আদালতের আশপাশে সরকারি জমি দখল করে অবৈধ নির্মাণ নিয়ে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ দেয় এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
শুনানিতে লখনউ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন আদালতকে জানায়, ইতিমধ্যেই ওই এলাকায় ১০০-রও বেশি অবৈধ আইনজীবীদের চেম্বার ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত ৭২টি অবৈধ দখলের মধ্যে মাত্র ১৪টি সরানো সম্ভব হয়েছে। কারণ, উচ্ছেদ অভিযানের সময় কিছু আইনজীবীর বিক্ষোভ ও বাধার মুখে অভিযান থামিয়ে দিতে হয়েছিল।
পুরসভা আরও জানায়, সংশ্লিষ্ট দখলদারদের আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছিল। পরে সেই নোটিস সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলিতে টাঙানো হয় এবং সংবাদপত্রেও প্রকাশ করা হয়। তবুও অধিকাংশ দখলদার সরকারি জমির ওপর তাঁদের বৈধ অধিকার প্রমাণ করতে পারেননি।
লখনউ বার অ্যাসোসিয়েশনের পদাধিকারীদের পক্ষে উপস্থিত সিনিয়র আইনজীবী এইচ.জি.এস. পরিহার আদালতে বলেন, অবৈধ দখলদারদের পক্ষে তিনি সওয়াল করতে পারবেন না। আইনজীবী হোন বা দোকানদার—যে কেউ যদি বেআইনিভাবে সরকারি জমি দখল করে থাকেন, তাহলে আইন অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
তবে কয়েকজন আইনজীবী আদালতের কাছে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আবেদন জানান। তাঁদের বক্তব্য, বৈধ চেম্বারের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত আইনজীবীদের জন্য অস্থায়ী বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করা উচিত।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
বিচারপতি রাজেশ সিং চৌহান এবং বিচারপতি রাজীব ভারতীর ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানায়, অভিযুক্ত দখলদাররা শুরু থেকেই জানতেন যে তাঁদের নির্মাণ অনুমোদিত নয়। তবুও ন্যায্যতার স্বার্থে তাঁদের আরও একবার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
আদালত নির্দেশ দেয়, এক সপ্তাহের মধ্যে ৭২ জন দখলদারকে নতুন করে লিখিত নোটিস দিতে হবে। কেউ নোটিস গ্রহণ করতে অস্বীকার করলে সেটি সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় টাঙাতে হবে এবং একটি হিন্দি ও একটি ইংরেজি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ করতে হবে।
এরপর সংশ্লিষ্টদের অন্তত ১০ দিনের সময় দিতে হবে। এই সময়ের মধ্যে তাঁরা চাইলে নিজেরাই জায়গা খালি করতে পারবেন অথবা জমির ওপর তাঁদের বৈধ অধিকার প্রমাণ করার জন্য প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে পারবেন।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, উচ্ছেদ অভিযানের নির্দিষ্ট তারিখ আগেই দখলদারদের জানিয়ে দিতে হবে, যাতে তাঁরা সহযোগিতা করতে পারেন।
হাইকোর্ট স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেছে, উচ্ছেদের দিন যদি কোনও ব্যক্তি বা তাঁর সহযোগীরা বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বা প্রশাসনের কাজে বাধা দেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রবিবারেই হবে উচ্ছেদ অভিযান
আদালতের কার্যক্রমে যাতে কোনও বিঘ্ন না ঘটে, সেই কারণে উচ্ছেদ অভিযান রবিবার পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে লখনউয়ের পুলিশ কমিশনার, জেলা শাসক (ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট) এবং মিউনিসিপ্যাল কমিশনারকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যাপ্ত পুলিশ ও প্রশাসনিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের মতে, পুরো অভিযান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে হবে এবং কোনওভাবেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে দেওয়া যাবে না।
আদালতের সিদ্ধান্ত
হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, নতুন নোটিস জারির পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি দখলদাররা জায়গা খালি না করেন বা বৈধ মালিকানার প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে লখনউ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান সম্পন্ন করবে।
এছাড়া, বার অ্যাসোসিয়েশনের পদাধিকারী ও অন্যান্য আইনজীবীদের বিরুদ্ধে চলা পৃথক কার্যক্রমে তাঁদের দেওয়া ব্যাখ্যা পরবর্তী শুনানিতে বিবেচনা করা হবে বলেও আদালত জানিয়েছে। শুধু ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে বলেই তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও বিরূপ ধারণা করা হবে না।
মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬।
কেস টাইটেল: Anuradha Singh and Others v. State of Uttar Pradesh through Principal Secretary (Home), Lucknow and Others
কেস নম্বর: Criminal Writ–Public Interest Litigation No. 4 of 2026



