বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে যৌন সম্পর্কের অভিযোগে মাকে ফাঁসানো যায় না
ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও মায়ের বিরুদ্ধে পৃথক অপরাধের প্রমাণ জরুরি

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে ছেলেকে সাহায্য করার অভিযোগ উঠেছিল মায়ের বিরুদ্ধে। কিন্তু সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মায়ের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালানোর মতো পর্যাপ্ত উপাদান পাওয়া যায়নি। ফলে ওই মহিলার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি কার্যক্রম খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ ১৭ আগস্ট ২০২৬ এই নির্দেশ দেয়। মামলাটি ছিল Criminal Appeal No. 3893 of 2026, যা Special Leave Petition (Criminal) No. 18609 of 2025 থেকে উদ্ভূত।
মামলার সূত্রপাত গুজরাটের আরাভল্লি জেলার মোদাসা টাউন থানায় দায়ের হওয়া একটি এফআইআর থেকে। ১৯ এপ্রিল ২০২৪ ওই এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল।
অভিযোগ ছিল, অভিযুক্ত মহিলার ছেলে দ্বিতীয় প্রতিপক্ষকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে ওই নারীর সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি অভিযোগ ওঠে, ছেলেকে তার মা এই ঘটনায় সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছিলেন। দ্বিতীয় প্রতিপক্ষের মালিকানাধীন একটি গাড়ি বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়।
এরপর অভিযুক্ত মা তাঁর বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিলের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছয়।
শীর্ষ আদালত মামলার First Information Statement বা প্রাথমিক তথ্যবিবরণী খতিয়ে দেখে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সেখানে দ্বিতীয় প্রতিপক্ষ এবং অভিযুক্ত মহিলার ছেলের মধ্যে একটি সম্মতিসূচক সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে। একইসঙ্গে বিয়ের প্রতিশ্রুতি এবং শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগও ছিল।
তবে আদালত মনে করেছে, মায়ের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলি ছিল অত্যন্ত সাধারণ ধরনের এবং তার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ বা নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। আদালত মন্তব্য করে, অভিযোগগুলি “blandly without any substantiation”, অর্থাৎ যথেষ্ট প্রমাণ বা ভিত্তি ছাড়াই করা হয়েছে।
মামলার চার্জশিটের পরিমাণও ছিল ২০০ পাতার বেশি। আদালত সেই চার্জশিটের পাশাপাশি দ্বিতীয় প্রতিপক্ষ এবং অভিযুক্ত মহিলার ছেলের মধ্যে হওয়া কথোপকথনের অনুবাদ করা কপিও পরীক্ষা করে।
সমস্ত নথি এবং তথ্য খতিয়ে দেখার পর সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ জানায়, অভিযোগগুলির মধ্যে এমন কিছু নেই যা আদালতের আস্থা তৈরি করতে পারে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, এই অভিযোগগুলি “inspires no confidence”, অর্থাৎ এগুলি যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য বলে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়নি।
আদালত দ্বিতীয় প্রতিপক্ষের বাবার দেওয়া বক্তব্যও বিবেচনা করে। সেই বক্তব্য থেকে জানা যায়, ওই নারী বিবাহিত ছিলেন এবং স্বামীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন ছিল। তবে আদালত লক্ষ্য করে, তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে—এমন কোনও বক্তব্য বা তথ্য মামলার নথিতে পাওয়া যায়নি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, কেবলমাত্র তিনি অভিযুক্ত যুবকের মা—এই পরিচয়ের কারণে তাঁকে ফৌজদারি মামলায় জড়ানো যায় না। বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানায়, মামলার সামনে থাকা উপাদানের ভিত্তিতে appellant-কে “cannot definitely be roped in”, অর্থাৎ কোনওভাবেই নিশ্চিতভাবে মামলায় জড়ানো যায় না।
এরপর আদালত মোদাসার বিশেষ আদালতে চলা Special (Atro) Case No. 14 of 2024-এর কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কোনও কারণ খুঁজে পায়নি। ফলে এফআইআর এবং চার্জশিটের ভিত্তিতে ওই মহিলার বিরুদ্ধে চলা সমস্ত ফৌজদারি কার্যক্রম খারিজ করে দেওয়া হয়।
সুপ্রিম কোর্ট আরও নির্দেশ দেয়, অভিযুক্ত মহিলা যদি জেলে থাকেন, তাহলে তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। আর তিনি যদি জামিনে থাকেন, তাহলে তাঁর জামিনের বন্ড বাতিল হয়ে যাবে।
এইভাবে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ আপিলটি মঞ্জুর করে এবং মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য pending application-ও নিষ্পত্তি করে দেয়।
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে ছেলেকে সাহায্য করার অভিযোগ উঠেছিল মায়ের বিরুদ্ধে। কিন্তু সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মায়ের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালানোর মতো পর্যাপ্ত উপাদান পাওয়া যায়নি। ফলে ওই মহিলার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি কার্যক্রম খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ ১৭ আগস্ট ২০২৬ এই নির্দেশ দেয়। মামলাটি ছিল Criminal Appeal No. 3893 of 2026, যা Special Leave Petition (Criminal) No. 18609 of 2025 থেকে উদ্ভূত।
মামলার সূত্রপাত গুজরাটের আরাভল্লি জেলার মোদাসা টাউন থানায় দায়ের হওয়া একটি এফআইআর থেকে। ১৯ এপ্রিল ২০২৪ ওই এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল।
অভিযোগ ছিল, অভিযুক্ত মহিলার ছেলে দ্বিতীয় প্রতিপক্ষকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে ওই নারীর সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি অভিযোগ ওঠে, ছেলেকে তার মা এই ঘটনায় সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছিলেন। দ্বিতীয় প্রতিপক্ষের মালিকানাধীন একটি গাড়ি বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়।
এরপর অভিযুক্ত মা তাঁর বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিলের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছয়।
শীর্ষ আদালত মামলার First Information Statement বা প্রাথমিক তথ্যবিবরণী খতিয়ে দেখে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সেখানে দ্বিতীয় প্রতিপক্ষ এবং অভিযুক্ত মহিলার ছেলের মধ্যে একটি সম্মতিসূচক সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে। একইসঙ্গে বিয়ের প্রতিশ্রুতি এবং শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগও ছিল।
তবে আদালত মনে করেছে, মায়ের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলি ছিল অত্যন্ত সাধারণ ধরনের এবং তার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ বা নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। আদালত মন্তব্য করে, অভিযোগগুলি “blandly without any substantiation”, অর্থাৎ যথেষ্ট প্রমাণ বা ভিত্তি ছাড়াই করা হয়েছে।
মামলার চার্জশিটের পরিমাণও ছিল ২০০ পাতার বেশি। আদালত সেই চার্জশিটের পাশাপাশি দ্বিতীয় প্রতিপক্ষ এবং অভিযুক্ত মহিলার ছেলের মধ্যে হওয়া কথোপকথনের অনুবাদ করা কপিও পরীক্ষা করে।
সমস্ত নথি এবং তথ্য খতিয়ে দেখার পর সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ জানায়, অভিযোগগুলির মধ্যে এমন কিছু নেই যা আদালতের আস্থা তৈরি করতে পারে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, এই অভিযোগগুলি “inspires no confidence”, অর্থাৎ এগুলি যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য বলে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়নি।
আদালত দ্বিতীয় প্রতিপক্ষের বাবার দেওয়া বক্তব্যও বিবেচনা করে। সেই বক্তব্য থেকে জানা যায়, ওই নারী বিবাহিত ছিলেন এবং স্বামীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন ছিল। তবে আদালত লক্ষ্য করে, তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে—এমন কোনও বক্তব্য বা তথ্য মামলার নথিতে পাওয়া যায়নি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, কেবলমাত্র তিনি অভিযুক্ত যুবকের মা—এই পরিচয়ের কারণে তাঁকে ফৌজদারি মামলায় জড়ানো যায় না। বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানায়, মামলার সামনে থাকা উপাদানের ভিত্তিতে appellant-কে “cannot definitely be roped in”, অর্থাৎ কোনওভাবেই নিশ্চিতভাবে মামলায় জড়ানো যায় না।
এরপর আদালত মোদাসার বিশেষ আদালতে চলা Special (Atro) Case No. 14 of 2024-এর কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কোনও কারণ খুঁজে পায়নি। ফলে এফআইআর এবং চার্জশিটের ভিত্তিতে ওই মহিলার বিরুদ্ধে চলা সমস্ত ফৌজদারি কার্যক্রম খারিজ করে দেওয়া হয়।
সুপ্রিম কোর্ট আরও নির্দেশ দেয়, অভিযুক্ত মহিলা যদি জেলে থাকেন, তাহলে তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। আর তিনি যদি জামিনে থাকেন, তাহলে তাঁর জামিনের বন্ড বাতিল হয়ে যাবে।
এইভাবে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ আপিলটি মঞ্জুর করে এবং মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য pending application-ও নিষ্পত্তি করে দেয়।
কেস টাইটেল: Ilaben v. The State of Gujarat and Anr.
কেস নম্বর: Criminal Appeal No. 3893 of 2026 (@ SLP (Crl.) No. 18609 of 2025)
বিচারপতি: Justice J.B. Pardiwala and Justice K. Vinod Chandran
রায়ের তারিখ: ১৭ আগস্ট ২০২৬



