
লখনউয়ের একটি বিশেষ আদালত (SC/ST Act Court) তফসিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন, ১৯৮৯-এর গুরুতর অপব্যবহারের দায়ে এক আইনজীবীকে ১২ বছরের কারাদণ্ড ও ৪৫,০০০ টাকা জরিমানা করেছে। এই মামলাটি আইনের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে আদালতের কঠোর মনোভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
📝 মামলার মূল তথ্য
| মামলার বিবরণ | তথ্য |
| দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি | পরমানন্দ গুপ্ত (Parmanand Gupta), পেশায় আইনজীবী। |
| দণ্ড প্রদানকারী আদালত | অতিরিক্ত জেলা বিচারক বিবেকানন্দ শরণ ত্রিপাঠী, স্পেশাল জজ (SC/ST Act Court)। |
| শাস্তি | ১২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৪৫,০০০ টাকা জরিমানা। |
| মিথ্যা মামলা | পরমানন্দ গুপ্ত তার এক দলিত সহযোগী (পূজা রাওয়াত)-এর সাহায্যে মিথ্যা এফআইআর (FIR) দায়ের করেছিলেন। |
| ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ | বিপিন যাদব, রাম গোপাল যাদব, ভগীরথ পণ্ডিত এবং মোহাম্মদ তাসুক। |
| পূর্ববর্তী দণ্ড | এই একই আইনজীবী চলতি বছরের আগস্ট মাসে SC/ST আইনের অপব্যবহার করে একটি মিথ্যা ধর্ষণের মামলা দায়ের করার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি লখনউ জেলে আছেন। |
মিথ্যা মামলা ও প্রতারণার বিবরণ
১. মিথ্যা অভিযোগ: ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে চিনহাট থানায় দায়ের করা এফআইআরে পরমানন্দ গুপ্ত অভিযোগ করেন যে উপরোক্ত অভিযুক্তরা তার সহযোগী পূজা রাওয়াতকে মারধর করেছে।
২. ক্ষতিপূরণ গ্রহণ: SC/ST আইনের বিধান অনুযায়ী, অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্য সমাজকল্যাণ দপ্তর থেকে পূজা রাওয়াতকে ৭৫,০০০ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছিল।
৩. আদালতে সত্য ফাঁস: ২০২৫ সালের ২ জুন মামলার শুনানির সময় পূজা রাওয়াত আদালতে স্বীকার করেন যে আইনজীবী পরমানন্দ গুপ্তের চাপে তিনি তদন্তকারী অফিসারের কাছে মিথ্যা বয়ান দিয়েছিলেন এবং এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
৪. প্রতারণা: পূজা রাওয়াত আরও জানান যে রাজ্য সরকারের দেওয়া ৭৫,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণের অর্থও পরমানন্দ গুপ্ত তার কাছ থেকে জোর করে নিয়ে নেন।
দণ্ডের বিধান
আদালত এই কাজের জন্য পরমানন্দ গুপ্তকে নিম্নলিখিত ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ও দণ্ড প্রদান করে:
- মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান (IPC-এর ধারা ১৯৩): ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০,০০০ টাকা জরিমানা।
- প্রতারণা (IPC-এর ধারা ৪২০): ৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০,০০০ টাকা জরিমানা।
- SC/ST আইনের ধারা ৩(২)(ভি): ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২৫,০০০ টাকা জরিমানা।
মোট কারাদণ্ডের সময়কাল ১২ বছর (কারাদণ্ডগুলি ধারাবাহিকভাবে কার্যকর হবে)। আদালতের এই রায়টি স্পষ্টভাবে দেখায় যে দুর্বলদের সুরক্ষার জন্য তৈরি হওয়া আইনের অপব্যবহারকে কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখা হবে না। এটি প্রতারণা এবং মিথ্যা মামলার প্রবণতা রোধ করতে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে।



