খবরাখবর

ডিম ছোড়ার ঘটনায় অরূপ বিশ্বাসকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা, আদালত বলল—‘অভিযুক্তকে প্রকাশ্যে অপমানের প্রবণতা বন্ধ হওয়া উচিত’

আলিপুর আদালত চত্বরে প্রাক্তন পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া এফআইআর মামলায় অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিল কলকাতা হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে অপমান করার প্রবণতা বন্ধ হওয়া উচিত।

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে অরূপ বিশ্বাসের দায়ের করা আবেদনের শুনানি হয়। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ফৌজদারি কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। অভিযোগ, অন্য একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গেলে আলিপুর আদালত চত্বরে তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়।

অরূপ বিশ্বাসের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে দাবি করেন, এই ঘটনা বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের সামিল এবং একে আদালত অবমাননা (ক্রিমিনাল কনটেম্পট) হিসেবে দেখা উচিত। তিনি বলেন, আদালত চত্বরে আইনজীবীদের হাতে ডিম ছিল, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। তাঁর মতে, এটি বিচার ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেছে।

শুনানির সময় হাইকোর্ট জানায়, আদালত চত্বরে নিরাপত্তা এবং অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে অপমান করার ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে একটি জনস্বার্থ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সেই মামলায় আদালত প্রয়োজনীয় স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) তৈরির বিষয়ও বিবেচনা করছে।

কিশোর দত্ত আরও বলেন, পুরো ঘটনাটি পুলিশের সামনেই ঘটেছে এবং তাঁর মক্কেল তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছিলেন। ঘটনার সময় সংবাদমাধ্যমও উপস্থিত ছিল এবং ডিম ছোড়ার দৃশ্য ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, তিনি সংবাদমাধ্যমকে দোষ দিচ্ছেন না; বরং অভিযোগের অসারতা তুলে ধরতেই এই বিষয়টি উল্লেখ করছেন।

এফআইআরের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কিশোর দত্ত। তাঁর দাবি, অভিযোগটি ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরে দায়ের করা হয়েছে, যা সন্দেহের সৃষ্টি করে। পাশাপাশি অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, অপরাধমূলক ভয় দেখানো এবং নারীর শালীনতাহানির মতো যেসব ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে, সেগুলির কোনও আইনি ভিত্তি নেই বলেও তিনি আদালতে দাবি করেন।

আদালত জানায়, অরূপ বিশ্বাস ইতিমধ্যেই অন্তর্বর্তী সুরক্ষা পাচ্ছেন। পাশাপাশি অভিযোগকারীকে মামলার পক্ষভুক্ত করে তাঁকে নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। পরবর্তী শুনানিতে বিষয়টি আবার বিবেচনা করা হবে।

শুনানির শেষে অরূপ বিশ্বাসের আইনজীবী পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে কোনও জোরপূর্বক ব্যবস্থা না নেওয়ার আবেদন জানান। সেই আবেদন মঞ্জুর করে হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।

এছাড়াও আদালত ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যৎ শুনানিতে প্রয়োজনে সেই ফুটেজ পরীক্ষা করা যায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button