খবরাখবর

মহাকাল মন্দিরের পার্কিংয়ের জন্য মসজিদের জমি অধিগ্রহণ বৈধ: মুসলিম ভক্তের আবেদন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

উজ্জয়িনীর বিখ্যাত মহাকাল মন্দিরের ‘মহাকাল লোক’ (Mahakal Lok) প্রকল্পের অধীনে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে দায়ের করা একটি পিটিশন খারিজ করে দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫-এ দেওয়া এক রায়ে আদালত জানিয়েছে, মসজিদের জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে একজন সাধারণ ভক্তের আবেদন আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে মন্দির চত্বরের পার্কিং এলাকা সম্প্রসারণের পথে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

মামলার প্রেক্ষাপট

উজ্জয়িনীর ‘তাকিয়া মসজিদ’ সংলগ্ন কিছু জমি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। প্রশাসনের উদ্দেশ্য ছিল মন্দিরে আসা পুণ্যার্থীদের ভিড় সামলাতে সেখানে একটি বড় পার্কিং এলাকা তৈরি করা। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মুহাম্মদ তাইয়াব নামে মসজিদের এক নিয়মিত উপাসক সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। তিনি মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের পূর্ববর্তী রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দাবি করেন যে, এই অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া বেআইনি।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও রায়

বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার ডিভিশন বেঞ্চ এই আবেদনের শুনানির পর জানায় যে, আবেদনকারীর এই মামলায় কোনো ‘লোকাস স্ট্যান্ডি’ (Locus Standi) বা আইনি অধিকার নেই। আদালতের প্রধান পর্যবেক্ষণগুলো হলো:

  • মালিকানা সংক্রান্ত প্রশ্ন: আবেদনকারী ওই মসজিদের জমি বা সম্পত্তির মালিক নন, বরং তিনি একজন ‘ভক্ত’ মাত্র। জমির মালিকানা না থাকায় অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার তাঁর নেই।

  • আবেদনের ত্রুটি: আদালত লক্ষ্য করেছে যে, আবেদনকারী মূল অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ না করে কেবল ‘অ্যাওয়ার্ড’ বা ক্ষতিপূরণের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে আবেদন জানিয়েছেন। এই কারণে আবেদনটি পদ্ধতিগতভাবে বাতিলযোগ্য।

আবেদনকারীর যুক্তি

আবেদনকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী হুজাইফা আহমাদি যুক্তি দিয়েছিলেন যে, ২০১৩ সালের ‘জমি অধিগ্রহণ আইন’ অনুযায়ী বাধ্যতামূলক সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন (SIA) করা হয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পার্কিং সুবিধার জন্য অন্য একটি ধর্মীয় স্থান অধিগ্রহণ করা সংবিধানের ১৪, ২৫ এবং ২৬ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। তবে আদালত এই যুক্তিগুলো বর্তমান পিটিশনের প্রেক্ষিতে যথেষ্ট বলে মনে করেনি।

রায়ের তাৎপর্য

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে ‘মহাকাল লোক’ দ্বিতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাওয়ার পথ পরিষ্কার হলো। উজ্জয়িনী প্রশাসন এখন কোনো আইনি জটিলতা ছাড়াই মসজিদের ওই জমিতে পার্কিং এলাকা সম্প্রসারণের কাজ চালিয়ে যেতে পারবে। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, জনস্বার্থে এবং জনসাধারণের উদ্দেশ্যে (Public Purpose) নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুভূতির চেয়ে আইনি প্রক্রিয়া ও সঠিক মালিকানা অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button