হাইকোর্ট

হাইকোর্টের বাইরে বিক্ষোভের ঘটনায় কুণাল ঘোষ-সহ ৮ জন আদালত অবমাননায় দোষী, রায় কলকাতা হাইকোর্টের

Court on its own motion v. Raju Das & Ors.

কলকাতা হাইকোর্ট তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুণাল ঘোষ এবং আরও সাতজন বিক্ষোভকারীকে ফৌজদারি আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে। আদালতের মতে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে কলকাতা হাইকোর্টের বাইরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ এবং পরবর্তী সময়ে দেওয়া কিছু প্রকাশ্য মন্তব্য বিচারব্যবস্থার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের সামিল।

প্রধান বিচারপতির নির্দেশে গঠিত বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের বিশেষ বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করে। মামলাটি আদালত স্বতঃপ্রণোদিত (সু মটো)ভাবে শুরু করে, যখন কয়েকজন আইনজীবী এবং এক আইন শিক্ষার্থী হলফনামা দিয়ে অভিযোগ করেন যে, ২৫ এপ্রিল ২০২৫-এ একদল বিক্ষোভকারী কলকাতা হাইকোর্টের কাছে জড়ো হয়ে রাস্তা অবরোধ করেন, আইনজীবীদের ভয়ভীতি দেখান, দায়িত্বপ্রাপ্ত এক বিচারপতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন, তাঁর ছবি প্রদর্শন ও পদদলিত করেন এবং শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বিচারাধীন মামলাগুলিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন।

শুনানিতে আদালত কলকাতা পুলিশের কাছ থেকেও রিপোর্ট তলব করে এবং দীর্ঘ শুনানির পর রায় ঘোষণা করে। আদালত পর্যবেক্ষণ করে, বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখা আদালতের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। আদালতের রায়ের সমালোচনা আইনের সীমার মধ্যে করা যেতে পারে, কিন্তু বিচারকদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা জনসমাবেশের মাধ্যমে আদালতের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

রায়ে আদালত উল্লেখ করে, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড আদালতের মর্যাদা ও আদালতের আদেশের পবিত্রতাকে ক্ষুণ্ন করেছে এবং বিচারপ্রশাসনে হস্তক্ষেপ করেছে।

সাতজন বিক্ষোভকারী আদালতে স্বীকার করেন যে তাঁরা ওই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন এবং নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। যদিও তাঁরা শিক্ষক নিয়োগে দীর্ঘ বিলম্বের কারণে মানসিক ক্ষোভের কথা তুলে ধরেন, আদালত জানায়, আবেগের বশবর্তী হয়ে আদালত অবমাননার মতো কাজকে ন্যায্য বলা যায় না।

অন্যদিকে, কুণাল ঘোষ দাবি করেন যে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং পরদিন যে সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন, তা রাজনৈতিক নেতা হিসেবেই করেছিলেন। কিন্তু আদালত মনে করে, তাঁর বক্তব্যে সংশ্লিষ্ট বিচারপতির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, যা বিচারব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থা নষ্ট করতে পারে।

আদালত আরও জানায়, প্রকৃত ক্ষমাপ্রার্থনা এবং নিজের কর্মকাণ্ডকে একই সঙ্গে সঠিক প্রমাণ করার চেষ্টা একসঙ্গে চলতে পারে না। সেই কারণে কুণাল ঘোষের ক্ষমাপ্রার্থনা গ্রহণ করা হয়নি।

রায়ে সাতজন বিক্ষোভকারীকে ফৌজদারি আদালত অবমাননায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে ১,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কুণাল ঘোষের ক্ষেত্রেও আদালত সর্বোচ্চ ২,০০০ টাকা জরিমানা ধার্য করেছে এবং চার সপ্তাহের মধ্যে সেই অর্থ জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা না দিলে তাঁকে তিন দিনের সাধারণ কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। পাশাপাশি, রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত রাখার আবেদনও আদালত খারিজ করে দিয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button