Othersসুপ্রিমকোর্ট

বিমা পলিসি কার্যকর হওয়ার আগে ঝুঁকি নেওয়া যায় না

অতিরিক্ত প্রিমিয়াম দেওয়ার আগের ক্ষতির দায় বিমা সংস্থার নয়

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ এক রায়ে স্পষ্ট জানিয়েছে, অতিরিক্ত প্রিমিয়াম পরিশোধের আগে ঘটে যাওয়া কোনও ঝুঁকিকে পরে বিমা পলিসির আওতায় আনা যায় না। আদালত বলেছে, বিমা সংস্থা অতিরিক্ত ঝুঁকি গ্রহণ করতে পারে না, যদি সেই ঝুঁকির জন্য প্রয়োজনীয় প্রিমিয়াম আগে গ্রহণ করা না হয়ে থাকে বা আইনসম্মতভাবে তার নিশ্চয়তা না থাকে।

এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট The New India Assurance Company Limited-এর করা দুটি আপিল মঞ্জুর করেছে। বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি নংমেইকাপাম কোটিস্বর সিংহের বেঞ্চ ১৮ আগস্ট ২০২৬ এই রায় দেয়।

মামলার সূত্রপাত ২০১০ সালের একটি Marine Cargo Annual Turnover Policy নিয়ে। এই পলিসি M/s Louis Dreyfus Commodities India Pvt. Ltd.-কে দেওয়া হয়েছিল। পলিসিতে বছরে সর্বোচ্চ ₹১,২০০ কোটি টাকার টার্নওভারের জন্য কভার দেওয়া হয়েছিল এবং প্রিমিয়াম দুই কিস্তিতে দেওয়ার কথা ছিল।

২০১০ সালের ৭ নভেম্বর একটি Container Freight Station-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সেখানে সংরক্ষিত ছিল ৪১,৪৮১টি তুলোর বেল। আগুন লাগার দিনই বিমা সংস্থাকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে বিমা সংস্থার নিযুক্ত সার্ভেয়ার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ₹২২.০১ কোটি বলে হিসাব করেন।

এরপর বিমা সংস্থা পলিসির কভারেজ ₹১,২০০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ₹১,৫০০ কোটি করার জন্য অতিরিক্ত ₹৮৬.৮৬ লক্ষ প্রিমিয়াম দাবি করে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই টাকা দেওয়া হয়েছিল ১৭ ডিসেম্বর ২০১০, অর্থাৎ অগ্নিকাণ্ডের প্রায় এক মাসেরও বেশি পরে।

এরপর বিমা সংস্থা ক্ষতিপূরণের দাবি প্রত্যাখ্যান করে। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত জাতীয় ক্রেতা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন বা NCDRC-তে যায়। কমিশন বিমা সংস্থাকে সার্ভেয়ারের নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের অর্থ দিতে নির্দেশ দিয়েছিল।

NCDRC তার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিমা সংস্থার এক ডিভিশনাল ম্যানেজারের ১৭ মে ২০১০-এর একটি ই-মেলকেও গুরুত্ব দিয়েছিল। ওই ই-মেলে বলা হয়েছিল, টার্নওভার ₹১,২০০ কোটি ছাড়িয়ে গেলেও ট্রানজিট কভারেজ চালু থাকবে।

কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এই যুক্তি গ্রহণ করেনি। আদালত Insurance Act, 1938-এর Section 64VB-এর কথা উল্লেখ করে জানায়, কোনও বিমা সংস্থা প্রিমিয়াম গ্রহণ না করে বা যথাযথ নিশ্চয়তা ছাড়া অতিরিক্ত ঝুঁকি নিতে পারে না।

বিচারপতি সঞ্জয় করোল বলেন, এই পলিসির ক্ষেত্রে টার্নওভার-ভিত্তিক কাঠামোই ছিল বিমা চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ১০ জুলাই ২০১০-এর মধ্যেই ₹১,২০০ কোটির নির্ধারিত টার্নওভার অতিক্রম করেছিল। ফলে এরপর অতিরিক্ত কভারেজের জন্য প্রয়োজনীয় প্রিমিয়াম দেওয়া বা আইনসম্মত গ্যারান্টি থাকা জরুরি ছিল।

আদালত ডিভিশনাল ম্যানেজারের ই-মেল নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছে। কোনও কর্মী একটি পলিসি পরিচালনা বা তার ব্যাখ্যা দেওয়ার দায়িত্বে থাকলেও, তার অর্থ এই নয় যে তিনি বিমা সংস্থার দায় নিজের ইচ্ছায় বাড়িয়ে দিতে পারেন কিংবা আইনে নির্ধারিত শর্ত এড়িয়ে যেতে পারেন।

বিচারপতি নংমেইকাপাম কোটিস্বর সিংহ বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে বলেন, “বিদ্যমান পলিসি পরিচালনা বা ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা মানেই পলিসি নতুন করে লেখার ক্ষমতা নয়।”

সুপ্রিম কোর্ট আরও জানায়, অগ্নিকাণ্ডের পরে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম গ্রহণ করে আগের তারিখ থেকে নতুন ঝুঁকি কভার করা যায় না। এই মামলায় অতিরিক্ত কভারেজের endorsement-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে বর্ধিত কভারেজ ১৭ ডিসেম্বর ২০১০ থেকে কার্যকর হবে। তাই তার আগের ৭ নভেম্বরের অগ্নিকাণ্ডকে ওই বর্ধিত কভারেজের আওতায় আনা সম্ভব নয়।

ফলে সুপ্রিম কোর্ট NCDRC-র নির্দেশ বাতিল করে New India Assurance Company Limited-এর দুটি আপিলই মঞ্জুর করে। আদালতের এই রায় বিমা চুক্তিতে প্রিমিয়াম পরিশোধ, ঝুঁকি গ্রহণ এবং পলিসির কার্যকর হওয়ার তারিখের গুরুত্ব আরও একবার স্পষ্ট করল।

কেস টাইটেল: The New India Assurance Company Limited & Ors. v. M/s Louis Dreyfus Commodities India Pvt. Ltd.

কেস নম্বর: Civil Appeal Nos. 7687-7688 of 2025

বিচারপতি: Justice Sanjay Karol and Justice Nongmeikapam Kotiswar Singh

রায়ের তারিখ: ১৮ আগস্ট ২০২৬

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button