খবরাখবর

“আমরা তাকে এভাবে বাঁচতে দিতে পারি না”: ১৩ বছর ধরে ‘ভেজিটেটিভ স্টেট’-এ থাকা শিশুর ইউথেনেশিয়া সংক্রান্ত আবেদনে সুপ্রিম কোর্ট

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ১৩ বছর ধরে ‘পারসিসটেন্ট ভেজিটেটিভ স্টেট’ (Persistent Vegetative State – PVS)-এ থাকা এক শিশুর অভিভাবকদের করা করুণামৃত্যু বা ইউথেনেশিয়া (Euthanasia)-র আবেদন পরীক্ষা করে দেখছে। এই মামলাটি ভারতে নিষ্ক্রিয় ইউথেনেশিয়া (Passive Euthanasia) এবং শেষ-জীবনের যত্নের সংবেদনশীল বিষয়টিকে আবারও সামনে এনেছে।

শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্ট শিশুটির অবস্থাকে “খুব, খুব দুর্ভাগ্যজনক” বলে বর্ণনা করে। বিচারপতিরা লক্ষ্য করেন যে শিশুটির শরীরে মারাত্মক বেডসোর বা শয্যাক্ষত তৈরি হয়েছে, যা দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণা এবং যত্নের অভাবের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। আদালত জোর দিয়ে বলেছে যে ওয়াটারবেডের মতো আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাগুলি শয্যাক্ষত প্রতিরোধ করতে পারে, এবং বর্তমান পরিস্থিতি শিশুটির জন্য “অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক”।

মামলার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকরা দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়েছেন যে শিশুটির আর আরোগ্য লাভের কোনো সম্ভাবনা নেই। আদালত পর্যবেক্ষণ করে মন্তব্য করে, “চিকিৎসকরা স্পষ্ট করে বলেছেন যে সুস্থ হওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই। সুতরাং, যতক্ষণ সে বেঁচে থাকবে, ততক্ষণ সে এভাবেই থাকবে।” আদালত উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্তব্য করে, “আমরা তাকে এভাবে বাঁচতে দিতে পারি না। এটা নিশ্চিত।”

শিশুটির অভিভাবকদের পক্ষ থেকে উপস্থিত আইনজীবী ‘কমন কজ’ (Common Cause) মামলার রায়ের উল্লেখ করেন। এই রায়ে নিষ্ক্রিয় ইউথেনেশিয়া মঞ্জুর করার জন্য নির্দেশিকা দেওয়া আছে। আইনজীবীর মতে, পাঁচজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে নিয়ে গঠিত একটি প্রাথমিক মেডিকেল বোর্ড ইতিমধ্যেই শিশুটিকে পরীক্ষা করেছে। তাই, প্রাথমিকভাবে দ্বিতীয় একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনের প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, রায় অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ হলো, শিশুটিকে নিউরো-প্যালিয়েটিভ কেয়ার বা উপশমমূলক যত্নের সুবিধাযুক্ত কেন্দ্রে ভর্তি করা, যেখানে জীবনের জন্য সহায়ক ব্যবস্থা (Life Support) প্রত্যাহার করা হবে।

তবে, পদ্ধতিগত প্রয়োজনীয়তা মেনে সুপ্রিম কোর্ট দ্বিতীয় একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করার ওপর জোর দেয়। অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে তারা যেন দ্বিতীয় বোর্ডটি গঠন করে এবং আগামী বুধবারের মধ্যে একটি প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়। এই প্রতিবেদনটি লাইফ সাপোর্ট প্রত্যাহার এবং নিউরো-প্যালিয়েটিভ কেয়ার সুবিধায় ভর্তি করার বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

আদালত এই সংবেদনশীল মামলায় নৈতিক চিকিৎসা পরিষেবা এবং করুণামৃত্যুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কঠোর মূল্যায়নের গুরুত্বের ওপর জোর দেয়। এই মামলাটি দেখায় যে সুপ্রিম কোর্ট কীভাবে অত্যন্ত কঠিন মানবিক ও আইনি দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রে সুচিন্তিত ও সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছে, যেখানে জীবন, মৃত্যু ও সম্মানজনকভাবে বাঁচার অধিকারের মতো গভীর প্রশ্ন জড়িত।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button