পাহালগাম জঙ্গি হামলা: মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে হাফিজ সইদের নাম সম্পূরক চার্জশিটে যুক্ত করল এনআইএ
এই হামলার পরিকল্পনা, নির্দেশনা ও তদারকি পাকিস্তান থেকে করা হয়েছিল

ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের পাহালগামে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল সংঘটিত ভয়াবহ জঙ্গি হামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) এই হামলার মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে লস্কর-ই-তইবার (LeT) প্রধান হাফিজ সইদের নাম উল্লেখ করে একটি সম্পূরক চার্জশিট জমা দিয়েছে।
রবিবার জম্মুর বিশেষ এনআইএ আদালতে এই সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, হাফিজ সইদ ব্যক্তি হিসেবে এবং নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবা ও তার কথিত সহযোগী সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান হিসেবে এই হামলার পরিকল্পনা ও পরিচালনায় জড়িত ছিলেন।
এনআইএ হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), ২০২৩ এবং বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (ইউএপিএ)-এর একাধিক কঠোর ধারায় অভিযোগ এনেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ফৌজদারি ষড়যন্ত্র, ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা এবং সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধ।
চার্জশিটে বলা হয়েছে, এই হামলার পরিকল্পনা, নির্দেশনা ও তদারকি পাকিস্তান থেকে করা হয়েছিল। তদন্তে সংগৃহীত বৈজ্ঞানিক, ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত প্রমাণের ভিত্তিতে এনআইএ দাবি করেছে, হামলার পুরো অপারেশন পরিকল্পনায় হাফিজ সইদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এবং তিনি সীমান্তের ওপার থেকে হামলাকারীদের নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
এই সম্পূরক চার্জশিটটি এনআইএর আগের ১,৫৯৭ পৃষ্ঠার চার্জশিটের পরবর্তী সংযোজন। এতে পাকিস্তানের কথিত ভূমিকা, হাফিজ সইদের সম্পৃক্ততা এবং ডিজিটাল ও ফরেনসিক তদন্তে পাওয়া নতুন তথ্য যুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর এনআইএ প্রথম চার্জশিট জমা দিয়েছিল। সেখানে পাকিস্তানভিত্তিক হ্যান্ডলার সাজিদ জাটকে অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত করা হয়। এছাড়া অপারেশন মহাদেবে নিহত তিন জঙ্গি, গ্রেপ্তার হওয়া দুই অভিযুক্ত এবং লস্কর-ই-তইবা ও টিআরএফ-এর নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পাহালগামের বৈসারণ উপত্যকায় পর্যটকদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালায় সশস্ত্র জঙ্গিরা। ওই হামলায় ২৫ জন পর্যটক এবং এক স্থানীয় পর্যটক গাইড নিহত হন। আহত হন আরও কয়েকজন। ঘটনাটি দেশ-বিদেশে তীব্র নিন্দার জন্ম দেয় এবং ব্যাপক তদন্ত শুরু হয়।
প্রথমে পাহালগাম থানায় এফআইআর দায়ের করা হলেও, হামলার গুরুত্ব এবং সীমান্তপারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ সামনে আসায় ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তদন্তের দায়িত্ব এনআইএর হাতে তুলে দেয়।
এনআইএ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে। হামলার সঙ্গে জড়িত পুরো জঙ্গি নেটওয়ার্ক, অর্থদাতা, পরিকল্পনাকারী, হ্যান্ডলার ও সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনাই এখন সংস্থার প্রধান লক্ষ্য।



