সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত: চার প্রাক্তন বিচারপতিকে ‘সিনিয়র অ্যাডভোকেট’ উপাধি প্রদান

দেশের আইনি ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। একটি নজিরবিহীন ‘ফুল কোর্ট’ বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে বিভিন্ন হাইকোর্টের চার জন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ও বিচারপতিকে ‘সিনিয়র অ্যাডভোকেট’ বা প্রবীণ আইনজীবী হিসাবে মনোনীত করা হবে। এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় বিচার বিভাগের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত, যেখানে অবসরপ্রাপ্ত বিচারকরা তাদের বিপুল অভিজ্ঞতা নিয়ে আবার আইন পেশায় ফিরতে পারবেন।
২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর তারিখে অনুষ্ঠিত ফুল কোর্ট মিটিং-এ এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাটি করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট তার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই চার প্রাক্তন বিচারপতিকে প্রবীণ আইনজীবীর মর্যাদা প্রদান করেছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সাধারণত সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা মেনে আইন বিশেষজ্ঞদের তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ এই ‘সিনিয়র অ্যাডভোকেট’ পদবি দিয়ে থাকে। এই ফুল কোর্ট মিটিং চলাকালীন, বিচারপতিগণ এই প্রাক্তন বিচারপতিদের আবেদনপত্র এবং আইনি ক্ষেত্রে তাঁদের যোগ্যতা বিশদে পর্যালোচনা করেন।
পর্যালোচনার পর, রেজিস্ট্রারের (CDSA) মাধ্যমে একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। দেবেন্দর পাল ওয়ালিয়া, যিনি রেজিস্ট্রার (CDSA) পদে রয়েছেন, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এই বিশেষ স্বীকৃতি পাওয়ার পর, এই চারজন প্রাক্তন বিচারপতি এখন থেকে সুপ্রিম কোর্ট এবং অন্যান্য আদালতে প্রবীণ আইনজীবী হিসাবে মামলা পরিচালনা করতে পারবেন, যা অবসর-পরবর্তী আইন অনুশীলনের নিয়ম অনুযায়ী হবে।
এই পদবি প্রাপ্তির ফলে এই প্রাক্তন বিচারপতিরা তাঁদের বিচারক হিসাবে অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং আইনি দক্ষতা নিয়ে বার (Bar)-এর কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সুযোগ পাবেন। এটি তাঁদের দীর্ঘ ও মর্যাদাপূর্ণ বিচারবিভাগীয় কাজের উপযুক্ত স্বীকৃতি।
সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসাবে মনোনীত প্রাক্তন বিচারপতিরা হলেন:
১. শ্রদ্ধেয় বিচারপতি অভীনন্দ কুমার শাভিলি: তেলেঙ্গানা রাজ্যের হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি। ২. শ্রদ্ধেয় বিচারপতি পবনকুমার বি. বাজেন্ত্রি: পাটনা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি। ৩. শ্রদ্ধেয় বিচারপতি সত্যেন্দ্র সিং চৌহান: এলাহাবাদ হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি। ৪. শ্রদ্ধেয় বিচারপতি টি.এস. শিবজ্ঞানম: কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি।
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখ থেকেই এই মনোনয়ন কার্যকর হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি প্রমাণ করে যে আইন জগতের উজ্জ্বল ব্যক্তিত্বদের বিচারবিভাগীয় অভিজ্ঞতার প্রতি সুপ্রিম কোর্টের গভীর শ্রদ্ধা ও স্বীকৃতি রয়েছে। তাঁদের এই নতুন ভূমিকা ভারতের আইনি ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা যায়।



