সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতাল থেকে ছাড়ার অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে রাজি নয় দিল্লি হাইকোর্ট
Gitanjali J. Angmo v. Union of India & Ors.

দিল্লি হাইকোর্ট সমাজকর্মী ও পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতাল থেকে অবিলম্বে ছাড়ার নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেছে। আদালত জানিয়েছে, দীর্ঘ অনশনজনিত শারীরিক অবস্থার অবনতির পর তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করার কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তকে ইচ্ছামতো বা বেআইনি বলা যায় না। আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করে, তাঁর শারীরিক অবস্থা চিকিৎসকদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তাঁর সম্মতি নিয়েই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি মিনি পুষ্কর্ণার বিশেষ বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। আবেদনটি দায়ের করেন ওয়াংচুকের স্ত্রী ডা. গীতাঞ্জলি জে. অ্যাংমো। তিনি জানান, ওয়াংচুক ২৮ জুন থেকে যন্তর মন্তরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায়, বিশেষ করে NEET-UG পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমর্থনে অনশনে বসেছিলেন। টানা ১৮ দিনের অনশনের পর ১৮ জুলাই তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আবেদনকারীর অভিযোগ ছিল, ওয়াংচুককে তাঁর সম্মতি ছাড়াই আন্দোলনস্থল থেকে সরিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে আইনজীবী ও পরিবারের মনোনীত স্বাধীন চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। পরিবার তাঁকে নিজেদের পছন্দের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতিও চেয়েছিল।
শুনানিতে আদালত পর্যবেক্ষণ করে, শারীরিক অবস্থার অবনতি সত্ত্বেও ওয়াংচুক নিজে থেকে কোনও হাসপাতালে ভর্তি হননি। এই পরিস্থিতিতে সরকার তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করার অধিকার রাখে। আদালত আরও জানায়, সফদরজং হাসপাতাল এবং এইমসের চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন।
আদালতের সামনে জানানো হয়, ওয়াংচুকের সম্মতি নিয়েই তাঁকে ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ওআরএস) এবং পটাশিয়াম ট্যাবলেট দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি চিকিৎসকদের পরামর্শ সত্ত্বেও শিরায় তরল (আইভি ফ্লুইড) এবং কিছু অন্যান্য চিকিৎসা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছেন। তাই আদালতের মতে, তাঁর শারীরিক স্বায়ত্তশাসনের অধিকার লঙ্ঘিত হয়নি।
আবেদনকারীর পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট কপিল সিব্বল যুক্তি দেন, ওয়াংচুক কোনও অপরাধমূলক মামলায় অভিযুক্ত নন বা গ্রেপ্তারও হননি। ফলে তিনি নিজের পছন্দের হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার অধিকার রাখেন। অন্যদিকে কেন্দ্রের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা বলেন, দীর্ঘ অনশনের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে উঠেছিল এবং দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন ছিল।
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর দিল্লি হাইকোর্ট কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে অস্বীকার করে। আদালত কেন্দ্রের বক্তব্য নথিভুক্ত করে জানায়, ওয়াংচুকের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের তাঁর সঙ্গে দেখা করার ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই এবং তাঁদের জন্য হাসপাতালে পৃথক থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দেয়, ওয়াংচুকের চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্ট তাঁর পরিবারের কাছে নিয়মিত সরবরাহ করতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য নোটিস জারি করা হয়েছে।



