পসমান্ডা মুসলিমদের জন্য আলাদা ওবিসি কোটার দাবি: মামলাকারীর উদ্দেশে কী ন্যায় বিচার দিল সুপ্রিম কোর্টের?

দেশের পসমান্ডা মুসলিমদের জন্য ওবিসি (OBC) বা অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির তালিকায় ১০ শতাংশ উপ-কোটা বরাদ্দের দাবিতে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে কঠোর অবস্থান নিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার মামলার শুনানির সময় আবেদনকারীর পেশ করা তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা এবং এর আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত।
মামলার প্রেক্ষাপট: মহম্মদ ওয়াসিম সাইফি নামক এক ব্যক্তির দায়ের করা এই পিটিশনে দাবি করা হয়, পসমান্ডা মুসলিমরা সামাজিকভাবে অত্যন্ত পিছিয়ে পড়া একটি গোষ্ঠী। রঙ্গনাথ মিশ্র কমিশনের রিপোর্টের সূত্র টেনে আবেদনে বলা হয়, মুসলিম সমাজের এই অংশটিকে ওবিসি তালিকার অন্তর্ভুক্ত করে বিশেষ সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়া হোক।
আদালতের তীক্ষ্ণ প্রশ্ন: প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আবেদনকারীর আইনজীবীকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, “আদালতের কাছে আপনাদের প্রত্যাশা ঠিক কী? আপনারা কি চান আমরা আইন তৈরি করি?”
আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, কোনো সম্প্রদায়কে ওবিসি মর্যাদা দেওয়া কেবল সামাজিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করে না; এর জন্য সুনির্দিষ্ট সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান প্রয়োজন। প্রধান বিচারপতি আরও প্রশ্ন তোলেন, “কেবল পসমান্ডা মুসলিমদের সুবিধা দিতে গিয়ে কি অন্য দরিদ্র মুসলিমদের বঞ্চিত করা হচ্ছে? পুরো মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে কতজন প্রকৃত অনগ্রসর, সেই বিষয়ে আপনাদের ‘হোমওয়ার্ক’ বা সঠিক গবেষণা কোথায়?”
সাংবিধানিক পর্যবেক্ষণ: আদালত মনে করিয়ে দেয় যে, কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে সংরক্ষণের আওতায় আনা বা নীতি নির্ধারণ করা মূলত সরকার ও সংসদের কাজ। আদালত কেবল আবেগের ভিত্তিতে নয়, বরং তথ্য-প্রমাণ ও বিচারিক কৌশলের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়। পসমান্ডা মুসলিমরাই একমাত্র অনগ্রসর গোষ্ঠী কি না, নাকি অন্য মুসলিম ওবিসি সম্প্রদায়ও রয়েছে—সেই বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য দাবি করেছে আদালত।
ভবিষ্যৎ শুনানি: আবেদনকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী অঞ্জনা প্রকাশ জানান, তিনি আদালতের তোলা প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে একটি বিস্তারিত নোট জমা দেবেন। সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছে এবং পরবর্তী শুনানির জন্য ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে দিন ধার্য করেছে।



