হাইকোর্ট

বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির মামলায় বিচারপ্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ, দিল্লি হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

Rohit Sehrawat v. State of NCT of Delhi and Another

বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় অভিযুক্ত রোহিত সেহরাওয়াতের বিরুদ্ধে চলা বিচারপ্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে যে, একই সময়ে দুই ভিন্ন ব্যক্তির দেওয়া বিয়ের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে একজন অভিযোগকারী যৌন সম্পর্কে সম্মতি দিয়েছিলেন—এমন দাবি সন্দেহের উদ্রেক করে।

বিচারপতি প্রতীক জালান ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে এই আদেশ দেন। তবে আদালত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, এই পর্যবেক্ষণ মামলার চূড়ান্ত রায়ের জন্য নয়; শুধুমাত্র অন্তর্বর্তী আবেদন নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেশনস কোর্টে বিচারপ্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে।

মামলার পটভূমি

রোহিত সেহরাওয়াত দিল্লির পাহাড়গঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া এফআইআর নং ৪৮৯/২০২৫-এর ভিত্তিতে চলা বিচারপ্রক্রিয়া স্থগিতের আবেদন নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। মামলাটি বর্তমানে সেশনস কোর্টে বিচারাধীন এবং সেখানে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শুরু হয়ে গিয়েছিল।

আবেদনকারীর দাবি ছিল, এফআইআরকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দায়ের করা মূল আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিচারপ্রক্রিয়া স্থগিত রাখা উচিত।

রোহিতের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নন্দিতা রাও আদালতে জানান, অভিযোগটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি আদালতের সামনে তুলে ধরেন যে, একই অভিযোগকারী ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আরও তিনজন ভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।

আদালতে পেশ করা নথি অনুযায়ী, ওই তিনটি অভিযোগের মধ্যে দুটি মামলায় পুলিশ ক্লোজার রিপোর্ট দাখিল করেছে এবং একটি মামলা পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে।

এছাড়া আবেদনকারী আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে অভিযোগকারীর দেওয়া একটি পূর্ববর্তী বিবৃতির দিকে। সেখানে অভিযোগকারী জানিয়েছিলেন যে, রোহিত সেহরাওয়াতের সঙ্গে তার সম্পর্ক ২০২২ সালেই শেষ হয়ে গেছে এবং তিনি তার বিরুদ্ধে আর কোনো অভিযোগ করবেন না। কিন্তু এরপরও ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে বর্তমান এফআইআর দায়ের করা হয়।

হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

বিচারপতি প্রতীক জালান বলেন, এই পর্যায়ে আদালত অভিযোগের সত্যতা বা মিথ্যতা নির্ধারণ করছে না। আদালতের সামনে কেবল এই প্রশ্ন ছিল যে, আবেদনকারী অন্তর্বর্তী সুরক্ষা পাওয়ার মতো একটি প্রাথমিক মামলা (prima facie case) দেখাতে পেরেছেন কি না।

শুনানির সময় আদালত লক্ষ্য করে, একই অভিযোগকারী অন্য একটি মামলাতেও প্রায় একই সময়কালকে কেন্দ্র করে একই ধরনের অভিযোগ এনেছেন।

এই প্রসঙ্গে আদালত পর্যবেক্ষণ করে,

“প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে, একই সময়কালকে ঘিরে যদি দুই ভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়, তাহলে প্রশ্ন ওঠে—অভিযোগকারী কি একই সময়ে দুই ভিন্ন ব্যক্তির দেওয়া বিয়ের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে যৌন সম্পর্কে সম্মতি দিতে পারেন?”

আদালত আরও উল্লেখ করে, এই বিষয়টি মামলার বিচারপর্বে বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উল্লেখ

দিল্লি হাইকোর্ট সাম্প্রতিক কয়েকটি সুপ্রিম কোর্টের রায়েরও উল্লেখ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে গেলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’-সংক্রান্ত অপরাধ হয়ে যায় না।

সুপ্রিম কোর্টের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধ প্রমাণ করতে হলে দেখাতে হবে যে, অভিযুক্ত শুরু থেকেই বিয়ে করার কোনো প্রকৃত ইচ্ছা রাখতেন না এবং শুধুমাত্র সেই মিথ্যা প্রতিশ্রুতির কারণেই অভিযোগকারী যৌন সম্পর্কে সম্মতি দিয়েছিলেন।

অর্থাৎ, পরবর্তীকালে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া বা বিয়ে না হওয়াই অপরাধ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়।

আদালতের নির্দেশ

সব দিক বিবেচনা করে দিল্লি হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় যে, রোহিত সেহরাওয়াতের বিরুদ্ধে সেশনস কোর্টে চলা বিচারপ্রক্রিয়া পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

আদালত জানিয়েছে, মূল আবেদন এবং অন্তর্বর্তী আবেদন একসঙ্গে ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ওই দিন মামলার পরবর্তী শুনানি হবে এবং তখন আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

এই অন্তর্বর্তী আদেশে দিল্লি হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছে যে, এটি মামলার চূড়ান্ত মতামত নয়। তবে একই সময়ে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে আদালতের পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button